শনিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী এক বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়েছেন দেড় লাখেরও বেশি মানুষ৷ অতি ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বিক্ষোভে অংশ নেন নানা শ্রেণি, পেশার মানুষ৷ এসময় অভিবাসনবিরোধী নানা স্লোগান দেন তারা৷

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, এই সমাবেশ ছিল সম্ভবত দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডানপন্থি বিক্ষোভগুলোর একটি৷ শহরে কেন্দ্রে হাজার হাজার ব্রিটিশ পতাকার ভিড়ে অনেক প্ল্যাকার্ডে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে ছোট নৌকায় (স্মল বোটস) অভিবাসীদের আগমন বন্ধের দাবি তোলা হয়৷
৪২ বছর বয়সি রবিনসন এর আসল নাম স্টিফেন ইয়্যাক্সলি-লেনন। তিনি বিতর্কিত সংগঠন ‘ইংলিশ ডিফেন্স লিগ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন৷
ইসলামবিদ্বেষী ও অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য তিনি একাধিকবার সাজা পেয়েছেন৷ ২০১৮ সালে আদালত অবমাননার দায়ে এবং ২০২৪ সালে এক শরণার্থীর বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্যের জন্য তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল৷
বিক্ষোভে রবিনসন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আজকের সমাবেশ একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা৷’’
তিনি দাবি করেন, অভিবাসনবিরোধী “নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ” আর নীরব থাকবে না৷
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা শরণার্থীদের ‘আক্রমণকারী’ হিসেবে অভিহিত করেন৷ ব্রিস্টল থেকে আসা ২৮ বছর বয়সি এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা কেবল আমাদের দেশটা ফিরি পেতে চাই৷’’
সমাবেশে ডানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীর পাশাপাশি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন৷
তিনি বলেন, “হিংসা এড়াতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে, নইলে মরে যেতে হবে।” ফরাসি কট্টর ডানপন্থি নেতা এরিক জমুরও এতে বক্তব্য রাখেন।
বিক্ষোভের শেষ দিকে পুলিশের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মোট ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে৷ আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জন নারী ও ২১ জন পুরুষ রয়েছেন৷ বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে কম ১৯ এবং সবচেয়ে বেশি ৫৮ বছর৷
সংঘর্ষে ২৬ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন৷ পুলিশ জানায়, তাদের ওপর বোতল, ধোঁয়া সৃষ্টিকারী বস্তু ও অন্যান্য জিনিস নিক্ষেপ করা হয়৷
পাশাপাশি একই সময়ে লন্ডনে ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম ইউকে’-এর ব্যানারে পাল্টা বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন৷ পুলিশের মতে, ডানপন্থি অংশগ্রহণকারীরা পাল্টা বিক্ষোভকারীদের দিকে এগোতে চাইলে সহিংসতা শুরু হয়৷
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পরদিন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের জাতীয় পতাকা বৈচিত্র্যের প্রতীক৷ আমরা কখনোই বর্ণবিদ্বেষীদের কাছে নতি স্বীকার করব না৷’’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার মৌলিক হলেও পুলিশকে আক্রমণ এবং ভিন্ন বর্ণের মানুষের প্রতি ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না৷
এদিকে, ব্রিটিশ মানবাধিকার সংগঠন ‘হোপ নট হেইট’ সতর্ক করে বলেছে, উগ্র ডানপন্থি মতবাদ এবং অভিবাসনবিরোধী ঘৃণা যদি এভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা আগামী দিনের জন্য ‘‘অশনি সংকেত’’ হয়ে দাঁড়াবে।

