হাসপাতালে যাওয়ার সময় পুরনো প্রেসক্রিপশন বা টেস্ট রিপোর্টের ফাইল নিয়ে ছোটাছুটি করার দিন হয়তো শেষ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নির্দেশে সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘ই-হেলথ কার্ড’। এর মাধ্যমে রোগীর যাবতীয় মেডিকেল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে, যা আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে।
ই-হেলথ কার্ড কী ও কীভাবে কাজ করবে?
ই-হেলথ কার্ড হলো একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র যা প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্যগত ইতিহাসের একটি ‘ডিজিটাল আর্কাইভ’ হিসেবে কাজ করবে। একজন রোগীর রক্তচাপ থেকে শুরু করে পূর্বের রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের ইতিহাস ও নিয়মিত সেবন করা ওষুধের তালিকা, সবই এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসকরা মুহূর্তেই দেখতে পাবেন।

রোগী ও চিকিৎসকরা যেসব সুবিধা পাবেন
- পূর্বের রেকর্ডের সহজলভ্যতা: রোগী যখন অন্য কোনো হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যাবেন, তখন চিকিৎসক কার্ডটি স্ক্যান করলেই রোগীর সব পূর্বের রিপোর্ট দেখতে পাবেন। এতে বারবার একই পরীক্ষা করার প্রয়োজন কমবে।
- সঠিক চিকিৎসা: চিকিৎসকের কাছে রোগীর পুরো হিস্ট্রি থাকায় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।
- রেফারেল নেটওয়ার্ক: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জেলা সদর হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত পুরো নেটওয়ার্ক এই পদ্ধতির আওতায় আসবে।
- দূর্গম এলাকায় সেবা: প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ কার্ডের মাধ্যমে সহজেই বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাস্তবায়ন পরিকল্পনা: পাইলট প্রজেক্ট
পুরো দেশে একযোগে নয়, বরং এই আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সফল করতে সরকার প্রথমে একটি জেলাকে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। সেই জেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত পুরো রেফারেল সিস্টেমকে এই ই-হেলথ পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই পাইলট প্রকল্পের সাফল্যই নির্ধারণ করবে পরবর্তীতে পুরো দেশে এটি কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতে বড় নিয়োগ ও কর্মসংস্থান
শুধু কার্ড চালুই নয়, প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী (যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূন্যপদ পূরণেও বিশেষ তাগাদা দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পূর্ণমাত্রায় সচল থাকে।
আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশ
আগামী দিনের পৃথিবীতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছাড়া মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব। ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো গড়ে তোলার পথে এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করবে। এটি রোগীদের হয়রানি কমাবে, চিকিৎসার খরচ সাশ্রয় করবে এবং স্বাস্থ্য খাতে তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

