আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন বাজার (মার্কেটপ্লেস) আপওয়ার্ক (সাবেক ওডেস্ক)। আপওয়ার্কে একদিকে যেমন প্রচুর কাজের ফরমাশ পাওয়া যায়, অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যাও এতে বেশি। মার্কেটপ্লেসটিতে কাজ করতে হলে এত দিন ১০ শতাংশ ফি কেটে রাখা হতো। আগামী মাস থেকে এই ফি বাড়ানো হচ্ছে।
আপওয়ার্কের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কাজদাতা বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করে প্রথম ৫০০ ডলার আয়ের ২০ শতাংশ, ৫০১ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত মোট আয়ের ১০ শতাংশ এবং ১০ হাজার ডলারের বেশি যেকোনো পরিমাণ আয়ের ওপর ৫ শতাংশ ফি দিতে হবে। কার্যত একজন ক্লায়েন্টের সঙ্গে ৫০০ ডলারের বেশি কাজ করে এমন ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা বেশ কম। বাংলাদেশে এ সংখ্যা হাতে গোনা। এক অর্থে মোট আয়ের ওপর ফি কাটার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গেল। আর এ নিয়ে ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে বেশ ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে যাঁরা ছোট পরিসরে কাজ করে থাকেন।
ফেসবুকে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের একটি গ্রুপে ফ্রিল্যান্সার মো. বশির আহমেদ লেখেন, জুন মাস থেকে নতুন ফি দিতে হবে আপওয়ার্কে। কম ডলারের কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য খুবই দুঃসংবাদ। সুজন নামে আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে আপওয়ার্ক ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। তাঁর মতে, আপওয়ার্ক সব সময় কাজদাতাদের প্রাধান্য দিয়ে এসেছে।
এক ই-মেইলের জবাবে আপওয়ার্কের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচ পিয়ারসন বলেন, ‘আপওয়ার্কের নতুন নীতিমালা ফ্রিল্যান্সারদের ভালোর জন্যই। হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, এটা সবার জন্যই বেশ বড় একটা পরিবর্তন। বিশেষ করে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। কিন্তু ৫০০ ডলারের নিচে যেকোনো পরিমাণ আয়ে ১০ শতাংশ ফি কাটলে আমাদের আয়ের চেয়ে খরচটাই বেশি হয়ে যায়। ২০ শতাংশ ফি কাটলে আমরা ছোট ছোট আরও অনেক কাজ আপওয়ার্কে নিয়ে আসতে পারব। আর ৫ শতাংশ ফি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক হবে।’
তবে কম বাজেটের কাজের জন্যই আপওয়ার্ক জনপ্রিয়। অপেক্ষাকৃত বেশি বাজেটের কাজ আগে ইল্যান্স নামে আরেকটি মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যেত। অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান ফ্রিল্যান্সারস ডটকম ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য ওডেস্ক ও ইল্যান্স একীভূত হয়ে যায়।
বেসিসের কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউল কায়ীশ বলেন, কোনো মার্কেটপ্লেসের ওপর নির্ভর না করে ফ্রিল্যান্সারদের উচিত পোর্টফোলিও বানিয়ে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি কাজ করা। নিজের ওয়েবসাইট এ ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। ফি বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের জন্যই ব্যবসা করছে। তারা যদি ফি বৃদ্ধি করে সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারি।’
Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/hrqwaeru/public_html/wp-content/themes/smart-mag/partials/single/featured.php on line 78
মন্তব্য যুক্ত করুন
