সুহাসিনী দেবী :: চাকরীজীবনে উপরে ওঠার কয়েকটি সিড়িঁ (বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া)
১) কখনোই না বলা যাবে না।
২) কথা বেশী বলা যাবেই না, ইশারায় ঘাড় নাড়িয়ে সারতে পারলে ভাল হয়।
৩) ২ মিনিটের কাজ ৬০ মিনিট ধরে করতে হবে, তাহলে উপরের পদবীয়ালারা মনে করবে খুবই জটিল এবং গুরত্বপূর্ন কাজ। একাজ আপনী ছাড়া কেউ পারতই না।
৪) মিটিংয়ে অতি নাটকীয় কথা বার্তা বলতে হবে, পারলে কান ধরে মাফ চাওয়ার ভানও করা যেতে পারে।
৫) অফিসে কখনোই সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহার না করা। অন্য কোন যেমন ব্লগিং সাইটের পাশ দিয়েও না যাওয়া।
৬) ইংরেজি বড় বড় দৈনিক (বিদেশী) বা অন্য ভাষার খুলে রাখতে হবে।উপরের পদবীয়ালারা পাশ দিয়ে গেলে খুবই মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। তাহলে দুইটি কাজ হবে ইংরেজি খু্ব ভাল, সারাদিন পড়াশুনা নিয়ে থাকে।
৭) বড় বড় রিসার্চ পেপার নামিয়ে প্রিন্ট করে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে উনাদের চোখে পড়ে।
৮) কোন কারনে উপরের পদের কেউ ডাকলে ১’শ মিটার স্প্রিন্টে দৌড় দিয়ে তার কাছে যেতে হবে।
৯) উপরের পদধারী কেউ উপস্থিত থাকলে তার সামনে দিয়ে অফিস ত্যাগ বা করার চেষ্টাও করা যাবে না।
১০) কাজ থাকুক আর না থাকুক অফিসে বসে প্রকৃতিক ডাকে সাড়াও দেয়া যাবে না। চোখ মুখ খিচিয়েঁ বসে থাকলে তারা ভাববেন জটিল বিষয় নিয়ে ভাবছেন। সুপারগু ব্যবহার করতে পারলে ভাল হয়। প্রতিদিন চেয়ারে বসার আগে লাগিয়ে নিয়ে বসে থাকতে হবে। তাহলে আর সমস্য হবে না।
১১) কথার শুরুতে স্যার, মাঝখানে স্যার, শেষে স্যার। প্রয়োজন হলে আরো বেশী বার স্যার স্যার করতে হবে। কথায় আছে ইশ্বর পর্যন্ত তেলানো পছন্দ করে আর অফিসের বস্ তাকে না তেলিয়ে কোন উপায় আছে।
১২) প্রয়োজন হলে বস্র জামা জুতা পরিস্কার করে দিতে হবে। বাসার বাজার এখন আর করতে হয় না। একারনে একাজ করার দরকার নাই।
১৩) বস্ ইংরেজিতে দূর্বল হলে তো সোনায় সোহাগা। আমাদের বাঘের সংখ্যা কম ত । এক্ষেত্রে শেয়াল হয়েও বাঘের কাজ চালিয়ে নেয়া যাবে।
১৪) এ্যাকাডেমিক রেজাল্ট অব্শ্যই ভাল হতে হবে। রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে। বসও প্রশসংসা করবেন।
আরো আছে…মনে পড়ছে না। । এগুলোর কোন গুনই আমার নাই।আয়ত্বে চেষ্টা করেও ব্যর্থ। আমি কি কোনদিন উপরে উঠতে পারব না। 🙁
লেখক :সাংবাদিক। কাজ করেন একটি জাতীয় দৈনিকে।
