জঙ্গিবাদের সমর্থন, সহিংস বা আপত্তিকর কোনো পোস্ট ফেসবুককে সরাতে বললে ফেসবুকের ‘গড়িমসি’ অনেকেই লক্ষ করেছেন। সম্প্রতি অনলাইনে জঙ্গিদের অপপ্রচার ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়ে ফেসবুকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুকের কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার পরপরই ফেসবুকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন রাখা হবে না বলে জানিয়েছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এবারে সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
ফেসবুকের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত পোস্টগুলোকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটটির কর্তৃপক্ষ। এ জন্য আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ফেসবুকের কর্মকর্তারা ব্লগ পোস্টে বলেছেন, ফেসবুকে সন্ত্রাসীদের কোনো কনটেন্ট থাকলে তা খুঁজে বের করে সরিয়ে ফেলতে পর্যালোচনাকারী কর্মীর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো পোস্ট যাতে অন্যরা দেখতে না পারে, সে জন্য দ্রুত এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে শিশু পর্নো ঠেকাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে ফেসবুকে কোনো কনটেন্ট সরানোর জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে অনিচ্ছুক ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী আপত্তিজনক উপাদান সম্পর্কে ফেসবুককে জানালে ফেসবুক বিভিন্ন বিবেচনায় তারপর সরানোর ব্যবস্থা করত। কিন্তু এখন ফেসবুকসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন দেশের সরকার সন্ত্রাসী প্রচারণা ও জঙ্গি নিয়োগদাতা পরিচয় বের করে দিতে চাপ দিচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে অনলাইনে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত কিছু পদক্ষেপে বলা হচ্ছে, ফলে অনলাইনভিত্তিক কোম্পানিগুলো তাঁদের সাইটে পোস্টের জন্য আইনত দায়ী থাকবেন।
ফেসবুকের পোস্টে বৈশ্বিক নীতিমালা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিকা বিকার্ট ও কাউন্টার টেররিজম নীতিমালা ব্যবস্থাপক ব্রায়ান ফিশম্যান থেরেসা মের আহ্বানকে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে পোস্টে স্বীকার করা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরে অনলাইনে সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
পোস্টে ফেসবুকের ওই দুজন কর্মকর্তা বলেছেন, ফেসবুকের ভূমিকা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর দিতে চান তাঁরা। সন্ত্রাসীদের সামাজিক যোগাযোগর ওয়েবসাইটে কোনো জায়গা নেই বলে যাঁরা মত দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত তাঁরা।
সাধারণত, সন্ত্রাসী কনটেন্ট খুঁজতে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, তার মধ্যে আছে ইমেজ ম্যাচিং বা ছবি মেলানোর পদ্ধতি। এতে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে সন্ত্রাস–সংশ্লিষ্ট যেসব ছবি, ভিডিও আপলোড করেন, তার সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়।
এ ছাড়া ফেসবুক টেক্সট–ভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি প্রয়োগ করছে। এতে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গ্রুপের সমর্থনে বা প্রশংসা করে পোস্ট করা কনটেন্ট ব্যবহার করে একটি যান্ত্রিক শিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করবে ফেসবুক, যা একই রকম পোস্ট শনাক্ত করতে কাজে লাগবে।
বিকার্ট ও ফিশম্যান বলেছেন, ফেসবুকে যখন কেউ সন্ত্রাসবিষয়ক পোস্ট সম্পর্কে প্রতিবেদন দেন বা ফেসবুককে জানান, ফেসবুক তখন জরুরি ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করে। ফেসবুক যখন কোনো ক্ষতির বিষয়টি টের পায়, তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।
তবে, এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল একটি প্রক্রিয়ার অংশমাত্র। এ প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি আস্থার জায়গায় যেতে পারেনি। তাই এ কাজে মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়।
ফেসবুক ১৫০ জন কর্মী সন্ত্রাসবিরোধী কাজের জন্য মূল দায়িত্ব দিয়ে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে কাউন্টার টেররিজম বিশেষজ্ঞ, সাবেক আইনজীবী, সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, বিশ্লেষক ও প্রকৌশলী রয়েছেন।
তথ্যসূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন টাইমস।
