আপনি কি খুব খেতে ভালোবাসেন? খুব স্বাভাবিক এই ব্যাপারটি কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেলে না তো আপনাকে? যেমন, যতই ডাক্তারের নিষেধ থাকুক না কেন খাবার দেখলে আপনি নিজেকে আর সংযত করতে পারেন না। অথবা আপনি বন্ধুদের আড্ডা, পার্টিসহ সকল মিলনমেলা এড়িয়ে চলেন কারণ সেখানে গেলেই হয়ত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিকে মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন ‘ইটিং ডিসঅর্ডার’।
‘ইটিং ডিজঅর্ডার সাধারণত মানসিক চাহিদার সাথে সম্পর্কিত হয়। আমরা যখন স্ট্রেসে থাকি, তখন খাবারকে ব্যবহার করি আমাদের মানসিক চাহিদা পূরণের বিকল্প হিসেবে।’ বলেন এনি বকশি, কাউন্সিলিং মনোবিজ্ঞানী।
ওজনের ওঠানামা, খাওয়ার ধরণ সবসময় ক্ষুধার সাথে সম্পর্কিত নাও হতে পারে। অনেক সময় আপনি হয়ত একা একা খাবার খান কারণ আপনার খাওয়ার পরিমা এক প্রকার অপরাধবোধ তৈরি করে আপনার মাঝে। খেলে আপনার মন খারাপ হয়, কারণ বেশী খেয়ে ফেলেছেন আপনি। আবার না খেলেও খারাপ লাগে। বলতে গেলে খাবার নিয়ন্ত্রণ করে আপনার মুড।
বকশি আরও বলেন, ‘আপনি যখন আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম তখন আপনি নিজের শরীরকেও কাজে লাগানো বন্ধ করে দেন।’ ডিসর্ডার বা ব্যাধি যখন আপনার মাঝে বাসা বাঁধে তখন তা আপনার মস্তিষ্কে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি করে। এই বিভ্রান্তিগুলো কারণ হতে পারে অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার।
ইটিং ডিসঅর্ডারের কিছু সাধারণ কারণ হল-
১. বংশগত
এই বিষয়ের ওপর অনেক গবেষণা রয়েছে এবং বিজ্ঞানীরা অনেকক্ষেত্রেই ইটিং ডিসঅর্ডারকে সম্পর্কিত করছেন পরিবারের ইতিহাসের সাথে। কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইটিং ডিসর্ডারের সাথে ডায়েট করা, ওজন কমানোর চেষ্টা বা এধরণের কোনকিছুর সংযোগ পাওয়া যায় নি। এই ব্যাধির সাথে পরিবারের পূর্ব সম্পর্কই সেক্ষেত্রে মুখ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
২. যৌন বা শারীরিক অবমাননা
অতীতের কোন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বা শারীরিকভাবে অপমানিত হওয়ার ঘটনা ইটিং ডিসঅর্ডারের কারণ হতে পারে।
৩. চিকন শারীরিক গঠনের মোহ
আমরা ধরে নিই, সুন্দর মানেই শারীরিক গঠনটা হতে হবে চিকন। নির্দিষ্ট একটা গঠনকে আদর্শ হিসেবে ধরে নিয়ে সেটা পাওয়ার চেষ্টা করেন সবাই। তবে একজন ইটিং ডিসর্ডারের রোগী আদর্শ শরীরটি পেতে খাওয়া কমানো, ওজন কমানো থেকে শুরু করে সবকিছুই করেন, খেয়াল করেন না নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে কিনা।
৪. ডায়েটিং এর ইতিহাস
আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন পেতে এধরণের রোগীরা বিভিন্ন ধরণের ডায়েট অনুসরণ করতে শুরু করেন। এরফলে দুই ধরণের ইটিং ডিসঅর্ডার হতে পারে। এক, ডায়েটের ফলে তৈরি হওয়া শারীরিক পুষ্টিহীনতা ব্যক্তিকে আরও বেশী পরিমাণে খেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। দুই, ছিপছিপে শারীরিক গঠন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এতই বেড়ে যেতে পারে যে ডায়েটিং মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে সেই অনুযায়ী।
৫. স্ট্রেস
চাকরিক্ষেত্রে হতাশা, দীর্ঘসময় কাজ করা, মানসিক বা শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত বোধ করা এর সবই অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণে আগ্রহী করতে পারে আপনাকে। সময় মত না খাওয়া, খাদ্যে অরুচি ইত্যাদি সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন কোনটাই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। একজন সুস্থ মানুষ কখনোই নিজের ক্ষতি করে এমন কাজ করেন না। তাই যখনই খেয়াল করবেন আপনার অভ্যাস আপনার ক্ষতি করছে তখনই বুঝবেন এটি অসুস্থতা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের স্মরনাপন্ন হোন, নিজের যত্ন নিন। ভাল থাকুন।
