কে হবেন উবারের প্রধান নির্বাহী? এ নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সদস্যদের মধ্য ‘দলাদলি’। একদল চাইছে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিসেবাটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ট্রাভিস কালানিক ফিরে আসুন, আরেক দল চাইছে বিকল্প। সেই একটি বিকল্পের নাম হিউলেট প্যাকার্ডের (এইচপি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেগ হুইটম্যান।
আট সদস্যের উবারের পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী সিইও হিসেবে মেগ হুইটম্যানকে নিয়ে রোমাঞ্চিত ছিলেন। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা সব মিলিয়ে উবারের সহপ্রতিষ্ঠাতা কালানিকের জায়গা নেওয়ার উপযুক্ত তিনি। গত কয়েক সপ্তাহে উবারের সমস্যা সমাধান বিষয়ে পরামর্শ করতে কয়েকজন বোর্ড সদস্য ব্যক্তিগতভাবে হুইটম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা হুইটম্যানের সঙ্গে আলাপের পর ওই পদের জন্য তাঁকে ভাবা শুরু করেছিলেন।
গত মাসেই বোর্ড সদস্যদের চাপে উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কালানিক। ২০০৯ সালে উবারের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই উবারের পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা চলছিল। উবারের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ বিনিয়োগকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন এবং নতুন কর্মকর্তা চাইছিলেন। তাঁরাই রাজি করানোর চেষ্টা করছিলেন মেগ হুইটম্যানকে।
তবে হুইটম্যানকে যাঁরা উবারের প্রধান নির্বাহী করতে চাইছিলেন, সে দলে নেই ট্রাভিস কালানিক। তিনি নিজে আবার ফিরতে চাইছেন। বোর্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক এজেন্ডা দাঁড় করিয়েছেন তাঁরা। কালানিকের পক্ষের মত, পরিচালনা পদে আবার কালানিককেই ফেরানো সম্ভব।
সম্ভাবনাকে সফল করতে কালানিকের পক্ষের গ্রুপটি জাপানের সফটব্যাংকে উবারে বিনিয়োগের জন্য ধরেছে। সফটব্যাংকের বিনিয়োগ জোগাড় করতে পারলে আবার ক্ষমতায় আসার পথ পেয়ে যাবেন কালানিক।
সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানের প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন যোগ্য প্রধান নির্বাহীর সন্ধান করছে উবার। এর মধ্যে এক ডজনের বেশি প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য কেউ নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না।
মেগ উবারের প্রধান নির্বাহী প্রার্থী হচ্ছেন—কথাটি চাউর হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার মেগ বিষয়টি স্পষ্ট করেন বলেন, ‘উবারের সিইও মেগ হুইটম্যান হবে না।’ মেগ হুইটম্যানকে উবারের প্রধান নির্বাহী করা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে ভোটপ্রক্রিয়া শুরুর আগেই টুইট করে মেগ তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। উবারের এই অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্ব খোঁজাটা দীর্ঘায়িত হলো। বোর্ড সদস্যরা জেনারেল ইলেকট্রিকের প্রধান নির্বাহী জেফরি ইমেল্টের বিষয়েও একমত হতে পারছেন না। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি যোগ্য পছন্দ হবেন না।
উবারের প্রধান নির্বাহী সন্ধান কাজের সঙ্গে যুক্ত একজনের মতে, কালানিকের জায়গা নিতে এখন পর্যন্ত চারজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অবশ্য উবারের কেউ কথা বলেননি।
এইচপির একজন মুখপাত্র বলেছেন, মেগ যেহেতু বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এইচি এন্টারপ্রাইজের প্রতি পুরোপুরি নিয়োজিত।
উবারের অভ্যন্তরীণ এ সংকটের সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ স্পষ্টই দুটি দলে বিভক্ত। একটি দলে আছেন কালানিক ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। আরেক দলে আছেন বিনিয়োগকারী ম্যাক কোহলার, ডেভিড ট্রুজিলো, উবারের সহপ্রতিষ্ঠাতা রায়ান গ্রেভস। তাঁরা ছিলেন হুইটম্যানের পক্ষে।
তবে নেসলের নির্বাহী ও উবারের বোর্ড সদস্য ওয়ান লিং মার্টেলো এবং সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রতিনিধি ইয়াসির আল রুমায়ানের অবস্থান অস্পষ্ট। কালানিকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হাফিংটন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ানা হাফিংটন খুব বেশি স্পষ্ট নয়।
উবারের বোর্ড সদস্যদের মধ্যে দল পরিবর্তনের বিষয়টি মতপার্থক্য তৈরি করেছে। কোনো আর্থিক কর্মকর্তা না নিয়োগ হওয়াতে কয়েকজন সদস্য নাখোশ। বিতর্ক আছে জাপানের সফটব্যাংক থেকে নেওয়া বিনিয়োগ নিয়েও। কয়েকজন যুক্তি দিচ্ছেন, এই অর্থ অপ্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ, ওই প্রতিষ্ঠান এশিয়ায় আরও কয়েকটি উবারের মতো সেবায় বিনিয়োগ করেছে। কয়েকজন বোর্ড সদস্য মনে করছেন, সফটব্যাংকের বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবেন কালানিক। সফটব্যাংকের প্রধান নির্বাহী মাসায়োসি সনের সঙ্গে জোট তৈরি করে সুবিধা পাবেন কালানিক। কারণ, ঘনিষ্ঠ বলে সনকে বোর্ডে আনবেন কালানিক। বিনিয়োগের শর্তে কালানিককেও প্রধান নির্বাহী হিসেবে সমর্থন দেবেন সন।
মেগ হুইটম্যান নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর উবারের প্রধান নির্বাহী নির্বাচন নিয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে। ট্রাভিস কালানিক ফিরে আসেন নাকি, আর কেউ তাঁর জায়গায় আসেন—সেটাই এখন দেখার বিষয়। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
