জাহিদ আল আমীন :: ক্রমশ: জনশুন্য হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। মহাসড়কগুলোতে সারি সারি গাড়ির মিছিল। মাইলের পর মাইল যানজট। ট্রেনগুলোও পেট-পিঠ ভর্তি করে ছুটছে বিভিন্ন গন্তেব্যে। লঞ্চ-ষ্টীমারেও তথৈবচ। তারপরও ঢাকাকে জনশুন্য বলা যায়। মোটামুটি ঢাকার বর্তমান অবস্থাটাকে স্বাভাবিক বলা যেতে পারে। মানুষের এ্ই শুন্য স্থান নানাভাবে দখল করেছে কোরবানীর অপেক্ষায় থাকা প্রাণীকূল।
আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটন, রমনা, মালিবাগ, মগবাজার, বাংলামটর, ধানমন্ডি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার। অধিকাংশ বাড়ির গ্যারেজ, সিড়িঘর, ছাদ, সামনের সংক্ষিপ্ত বাগান, সামনের রাস্তা ক্রমশ: গরু-ছাগল, মহিশের আস্তাবলে পরিণত হচ্ছে। গোবর, মূত্রের তীব্র দুর্গন্ধে আশে-পাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। থেকে থেকে অতি দীর্ঘ হাম্বা হাম্বা ডাক যেমন শোনা যায়, তেমনি আছে ছাগলের ডাকাডাকি।
তবে সত্যি বলতে কি, কোরবানী যোগ্য কোন মহিশ, ভেড়া, দুম্বা ও উটের ডাক কানে আসেনি। রাস্তায় এখন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। রাজপথ এখন রাজনীতিবীদদের পরিবর্তে গরু-ছাগলের দখলে। পথচারীদের মুখে একটাই প্রশ্ন – ভাই কত, কত দাম নিছে। লাভ হোক আর লোভ হোক, দাম টা জানার জন্য প্রায় সকলেরই ব্যাপক আগ্রহ। ক্রেতা গরু সামলাবেন না দাম বলবেন, মাঝে মাঝে মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। এরই মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ বিনোদন আর আতংকের কার হয়ে দাড়ায় লাগাম ছুটে যাওয়া কোন কোরবানীর প্রাণী। এ নিয়ে ছোটো-খাটো দুর্ঘটনা ঘটছেই।
এর মাঝে আবার গরুর খাবার, খড়-কুটা, দড়ি, লাঠি, দা, ছুরি আর হাড় মাংশ আলাদা করার কাঠের টুকরার ছোট বড় পশরা সাজিয়ে একদল মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আবির্ভাব হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় এসব জিনিস গলির মুখে, রাস্তার মোড়ে পাওয়া যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের কিছুটা সুবিধাই হয়েছে। আর দুটি রাত পোহালেই কোরবানী। কোরবানীর পশুর রক্ত, বর্জ্য, ও উচ্ছিষ্টাংশও পৃথিবীর অন্যতম নোংরা এই নগরীকে নোংরাতম নগরীতে রুপান্তরিত করবে।
নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সচেতন হলে, নগর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যেমন পরিশ্রম একটু হ্রাস পেত, তেমনি নগরবাসী পুঁতি-দুর্গন্ধময় পরিবেশ থেকেও রক্ষা পেত। নাড়ীর টানে ছুটে চলা নগর বাসীরাও ফিরে এসে সারপ্রাইজড হতো। আমরা কি নিজেরো একটু সচেতন হতে পারিনা! অন্যদেরকেও সচেতন করতে কি কোন অসুবিধা আছে ? আমরা কোরবানীর পশুগুলোর সাথে আমাদের মনের মাঝে বাসকরা পশুগুলোকেও কোরবানী করে দিতে পারিনা ! সবাইকে ঈদ মুবারাক !
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক
