এক যুগেরও বেশি সময় পর জার্মানিতে বসবাসরত শরণার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে৷ সরকারি তথ্য বলছে, ২০১১ সালের পর এই প্রথমবারের মতো দেশটিতে বসবাসরত শরণার্থীর সংখ্যায় এই পরিবর্তন এসেছে৷

জার্মানির বামপন্থি দল ডি লিংকে-র এক সংসদীয় প্রশ্নের উত্তরে সরকার এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷ এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে শরণার্থীর সংখ্যা অন্তত ৫০ হাজার কমেছে৷ ২০২৪ সালের শেষে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ ৫০ হাজার, সংখ্যাটি কমে এখন হয়েছে ৩৫ লাখ৷
শরণার্থীর এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে জার্মানিতে বিভিন্ন মর্যাদায় বসবাসের অনুমতি পাওয়া আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীরা৷ নতুন আসা আশ্রয়প্রার্থী থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে যারা দেশটিতে আছেন, তাদেরকেও রাখা হয়েছে এই তালিকায়৷ ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন৷
ডি লিংকে বলছে, শরণার্থীদের সংখ্যা কমে আসার পেছনে রয়েছে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন, স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, নাগরিকত্ব গ্রহণের মতো নানা কারণ৷
জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৮৩ হাজার ১৫০ জন সিরীয় নাগরিককে জার্মান নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে৷
৩৫ লাখ শরণার্থীর মধ্যে প্রায় চার লাখ ৯২ হাজার ব্যক্তিকে নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা৷ তাদের মধ্যে অনেকে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন৷ আবার অনেকের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলেও বিশেষ বিবেচনায় জার্মানিতে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেয়েছেন৷
চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষে এসে দেখা গেছে, জার্মানিতে বসবাসরত ইউক্রেনীয় শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার৷
ডি লিংকের রাজনীতিবিদ ক্লারা ব্যুঙ্গার বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা কমে আসা কোনো ‘‘উল্লাসের কারণ নয়৷’’ তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করার মতো কারণগুলো এখন অনেক বেশি ঘটছে৷
বামপন্থি এই নেত্রী বলেন, কঠোর অবস্থান নেয়ার কারণে যাদের সুরক্ষা প্রয়োজন, তারা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত পার হতে পারছেন না৷
ব্যুঙ্গার বলেন, ‘‘জার্মানিতে শরণার্থীর সংখ্যা কমে আসা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তথাকথিত জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আইন স্থগিত করা কতটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত৷’’

