
‘জোঁক’। এমন এক ছোট প্রাণী যারা মূলত প্রাণীর দেহ থেকে রক্ত চুষে খায়। এদের শরীরে কোন ধরনের হাড় না থাকলেও এদের মুখের শক্তিশালী চোষক দিয়ে নিজেদের দেহের ওজনের কয়েকগুণ বেশি রক্ত চুষে খেতে পারে। কিছু জোঁক প্রাণীর শরীর থেকে এমনভাবে রক্ত চুষে খেতে সক্ষম যে সেই প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত শরীরে নাও থাকতে পারে। এমন বৈশিষ্ট্যের জোঁককে খুব হিংস্রতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
রক্তচোষা জোঁক ও তাদের জাতভাইরা কেঁচোর মত এনিলিডা পর্বের জীব। এরা এনিলিডা পর্বের হিরুডিনিয়া উপপর্ব গঠন করে। এবার এই জোঁক ব্যবহৃত হচ্ছে চিকিৎসায়। অদ্ভুত শোনালেও এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয় তুরস্কের কয়েকটি হাসপাতালে। যা পরিচিত ‘লিচ থেরাপি’ নামে।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটা প্রতিনিয়ত ঘটছে তুরস্কের বেশকিছু হাসপাতালে। ভয়ংকর এ পরজীবিটির সাহায্যেই রোগীদের শুশ্রূষা করছেন চিকিৎসকরা। সম্প্রতি প্রথাগত চিকিৎসায় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ এ চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন দেশটির বাসিন্দারা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা জোঁক ব্যবহার করা হয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। তাই আমি হাসপাতালে এসে এই ট্রিটমেন্ট নিতে পছন্দ করি।
পাশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন অপর এক রোগী। তবে, ভিন্ন পন্থায়। তার পিঠে বসানো হয়েছে মোট আটটি সাকশন কাপ। পরবর্তী ১৫ মিনিট এভাবেই উপুর হয় শুয়ে থাকবেন তিনি। ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে দূষিত রক্ত। ধারণা, এ চিকিৎসাতেই কমবে ঘাড় ও পিঠের তীব্র যন্ত্রণা।
তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটির ৮১ রাজ্যের বেশিরভাগেই পেশাদার ডাক্তাররা এসব পদ্ধতি ব্যবহার করছেন রোগীদের শুশ্রূষায়।
সূত্র: রয়টার্স।

