দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয়ার আশায় ছিল বাংলাদেশ। তবে মঙ্গলবার সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে তেমন কিছুই করতে পারেনি টিম টাইগার্স। এদিন শুরু গয়েছিল ঝন্নছাড়া বোলিংয়ে। পরে ব্যাটিংয়ে। তাওহিদ হ্নদয় ছাড়া কোন ব্যাটার পারেনি ২২ গজে সুবিচার কারনে। যে কারনে বড় হারের সঙ্গে সিরিজও হাতছাড়া করল মেহদী হাসান মিরাজের দল।

পাল্লেকেল্লেতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হেরেছে ৯৯ রানে। এর সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ দলটি হাতছাড়া করল ২-১ ব্যবধানে। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। দলটির হয়ে ১১৪ বলে সর্বোচ্চ ১২৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস।
জবাব দিতে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৩৯.৪ ওভারে ১৮৬ রানে। তাওহিদ হ্নদয় সর্বোচ্চ ৫১ নান করেন। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন কুশল মেন্ডিস। ২৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দেন।
তবে আসিথা ফার্নান্দোর করা তৃতীয় ওভারের করা শেষ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে এ ব্যাটার করেন ১৩ বলে ৩ চারে ১৭ রান। তানজিদ ফেরার কিছুক্ষণ পরেই সাজঘরের পথ ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শূন্য রানে ফিরন তিনি। দুশমান্থা চামিরার বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন এ বাঁহাতি। সে সময় ৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ২০।
দলের কঠিন এ অবস্থায় হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহিদ হৃদয়। তাদের জুটিতে প্রথম তিনটি বাউন্ডারি আসে ব্যাটের কানায় লেগে। পাওয়ার প্লের সময় বেশির ভাগ রান তারা বাউন্ডারি থেকেই এনেছেন। এরপর অবশ্য সাবলীল ব্যাট করেন দুই ব্যাটসম্যান। তবে পাওয়ার প্লের পরের দুই ওভারেও কোনো বাউন্ডারি আসেনি। স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ছিল। সেটি থেকে বের হতেই স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন পারভেজ। তবে ডিপ মিডউইকেটে দাঁড়ানো নিশান মাদুস্কার হাতে বল চলে যায়। তােই ৪৪ বলে ২৮ রান করে ফিরেন পারভেজ। এরসঙ্গে হৃদয়ের সঙ্গে ৫৮ বলে ৪২ রানের জুটি ভাঙে।
পারভেজ ফিরলে ২২ গজে এসেই দারুণ শুরু করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ম্যাচের প্রথম ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। চামিরার শর্ট বল মিডউইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন তিনি। এরপর সোজা ব্যাটে খেলে বেশ এগোচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আবার তুলে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন এ ডানহাতি। ফেরার আগে ২৫ বলে ২৮ রান করেন মিরাজ।
হৃদয়ের সঙ্গে তার ৪৩ রানের জুটিও ভেঙে যায়। মিরাজ ফিরলে লড়াই করেন শুধু তাওহিদ। তবে যোগ্য সঙ্গ পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫১ রান করে চামিরার বলে বল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর লঙ্কানদের বিপক্ষে যা একটু লড়াই করেন শুধু জাকের আলী। ৩৫ বলে ২ ছয় ১ চারে ২৭ রানে ফিরেন তিনি। তার বিদায়ের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মাত্র ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় টিম বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার ফার্নানাদো ও চামিরা নেন ৩টি করে উইকেট।
এরআগে টস হেরে মঙ্গলবার সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে বল হাতে নিয়ে দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের সৌজন্যে ভালই করেছিল বাংলাদেশ। এ সুবাদে চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে দলকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন তানজিদ হাসান সাকিব। খানিকটা বাড়তি বাউন্স করা বল মাদুস্কার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে জমা পড়ে। এই ওপেনার ১ রান করে ফিরলে ভাঙে ১৩ রানের উদ্বোধনী জুটি।
দ্রুত উইকেট হারালেও তিনে নেমে উড়ন্ত শুরু করেন কুশল মেন্ডিস। আরেক প্রান্তে থাকা পাথুম নিশাঙ্কাও দ্রুতই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তাতে প্রথম পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তুলে শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত বিপজ্জনক এ জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনার ১৫তম ওভারে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন পাথুম নিশাঙ্কাকে।
পারভেজ ইমনের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৪৭ বলে ৩৫ রান করেন এই ওপেনার। ইনিংসের ১৯তম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে আসেন মিরাজ। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পান অধিনায়ক। ইনিংসের ২১তম ওভারের শেষ বলে কামিন্দু মেন্ডিসকে এলবিডব্লিয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ২০ বলে ১৬ রান করেছেন কামিন্দু।
১০০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর চারিথ আসালঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন কুশল মেন্ডিস। দ্রুতই তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন আসালঙ্কা। ৮ চারে ৬০ বল খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলটি লো ফুলটস করেছিলেন তাসকিন, সেখানে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন আসালঙ্কা। ৫৮ রান করে অধিনায়ক ফেরায় ভাঙে ১২৪ রানের জুটি। গত ম্যাচে ফিফটি করে কুশল আজ সেঞ্চুরি পেয়েছেন।
মাত্র ৯৫ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান এই টপ অর্ডার ব্যাটার। সেঞ্চুরির পরও দেখে-শুনেই খেলার চেষ্টা করছিলেন। তবে শামীমের দারুণ এক ক্যাচে ফিরতে হয়েছে তাকে। এই অফ স্পিনারকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে ১১৪ বলে করেছেন ১২৪ রান। লোয়ার মিডল অর্ডারে জানিথ লিয়ানাগে, দুনিথ ভেল্লালেগে দ্রুত ফিরলে রানের গতি কমে যায়। তবে শেষদিকে ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দুশমন্থা চামিরা ভালো ব্যাটিং করেন। তাতে ২৮০ পেরোয় লঙ্কানদের সংগ্রহ।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট।

