খুজিস্তা নূর-ই নাহারীন :: নারীকে আরও আধুনিক হতে হবে। তবে এখানে আধুনিক হওয়ার বিষয়টি ভিন্ন। পাশ্চাত্য কিংবা দূর সংস্কৃতির আদলে নারীকে সাজালেই নারী আধুনিক হয় না। নারী তখনই আধুনিক হবে যখন সে সমাজ এবং কর্মস্থলে সমান পারদর্শী হবে। পরিবার গোছানো থেকে শুরু করে অফিসের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে সমান সক্রিয় হবে। নারীকে তখনই আধুনিক বলা হবে যখন তারা তাদের অধিকার আদায়ে নিজের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন করতে পারবে।নিজের কথা বলতে গেলে, স্টক এঙ্চেঞ্জ বা পুঁজিবাজারে আমি ১৪ বছর ধরে এই সময়ে অনেক কিছুর পরিবর্তন দেখেছি। প্রথম যে আমাকে সবাই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল, তা বলা যাবে না। নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আমাকে এখানে আসতে হয়েছে। তবে এটা সত্য যে, নারী বলে আমাকে কেউ অবহেলা করেনি। সবার সহযোগিতার মাধ্যমেই আমি আজকে এখানে আসতে পেরেছি।
পুঁজিবাজারের বিষয়টি বিনিয়োগ-সম্পর্কিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কিছুটা আতঙ্ক থাকে। ট্রেডিং স্টেশনগুলোতে পুরুষ বিনিয়োগকারী যেভাবে উপস্থিত থাকে নারীরা সেভাবে এখানে আসে না। যদিও তাদের জন্য প্রতিটি ব্রোকার হাউসেই আলাদা জায়গা আছে। একইসঙ্গে ডিএসই’র পক্ষ থেকেও নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতি সময়েই ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, নারীরা ঝুঁকি নিয়ে ভয় পায়। এটা তারা তাদের সমাজ থেকেই শিক্ষা নিয়ে আসছে।
এ ঝুঁকি নেয়া থেকে যখন নারীরা বেরিয়ে আসতে পারবে, তখনই তারা আধুনিক হবে। এবং দেশ এগিয়ে যাবে।জন্মগতভাবেই তারা দেখছে সমাজে পুরুষরা আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। সেই থেকেই আমাদের দেশের নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হতে শেখেনি। এমন অবস্থাতেই নারীদের তার অধিকার আর যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। তাদের প্রতিবাদী হতে হবে। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা এগিয়ে আসছে। তবে এখানে দুটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে।
যারা শুধু মনে করে তার দায়িত্ব পরিবার সামলানো আর সন্তান জন্ম দেয়া, তারাই মূলত পিছিয়ে পড়া নারীদের কাতারভুক্ত। আর আধুনিক নারী তারাই, যারা সব পর্যায়ে সমান এবং সমান দায়িত্ব পালনে অভস্ত। হোক সেটা পরিবার, হোক সেটা কর্মস্থল। যেসব নারী শিক্ষিত হয়েও সমাজে তার কোনো ভূমিক নেই তারা কখনও আধুনিক হতে পারে না। নারী দিবসে নারীদের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে— তারা সমাজ এবং পরিবারে সমান পারদর্শী হবে। একইসঙ্গে তাকে দেখেই অন্যেরা অনুপ্রাণিত হবে।
লেখক : পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
