মধু প্রকৃতির অন্যতম সেরা উপহার। রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার নতুন নয়। সোন্দর্য্য বর্ধনে প্রাকৃতিক যত উপাদান ব্যবহার করা হয়, মধু সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম।

তারুণ্য ধরে রাখার জন্য জরুরি একটি প্রোটিন হলো কোলাজেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের উৎপাদনের মাত্রা কমে যায়। মধু এই কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে ত্বকের লাবন্য ধরে রাখে। এছাড়া প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে মধু। মধুতে থাকা এনজাইম বাতাস থেকে জলীয় কণা ত্বকের ভেতরে টেনে নিয়ে ত্বক হাইড্রেড রেখে ত্বকের রুক্ষতা কমায়।
মধু ত্বককে শুধু উজ্জ্বলই করে না, তারই সঙ্গে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও দূর করে। রূপচর্চায় সবচেয়ে ভালো কাজ করে ফুলের মধু। প্রতিদিন সকালে ভালো করে মুখ ভিজিয়ে প্রয়োজন মতো মধু নিয়ে ভেজা মুখে মেখে নিন। হালকাভাবে ম্যাসেজ করুন। তারপর ভালো করে ধুঁয়ে ফেলুন। কয়েকদিন নিয়মিত মধু ব্যবহার করার পরেই পরিবর্তনটা বুঝতে পারবেন।
মুখের উজ্জ্বলতার জন্য আধা চা-চামচ মধু ও আধা চা-চামচ টমেটোর রস মিলিয়ে বানিয়ে নিন ফেসপ্যাক। ঘনত্ব বাড়াতে আধা চা-চামচ মসুর ডালের বেসন যোগ করা যেতে পারে। এছাড়া তরল বা গুঁড়া দুধের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ মধু মেলানো প্যাকও ব্যবহার করলে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
সমপরিমাণ দুধ ও মধু মিশিয়ে বানানো ক্লিনজিং ক্রিম প্রতিদিন গোসলের আগে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে নিন। গোসলেও ব্যবহার করতে পারেন মধু। দুই টেবিল চামচ মধু ১ কাপ গরম পানিতে ভালোভাবে মেশান। তারপর এক বালতি পানিতে ঢেলে দিন সেই মধুমিশ্রিত গরম পানি। সেই পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বক পরিষ্কার থাকবে, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকেও ত্বক রক্ষা পাবে।
ব্রণের স্থানে সিকি চা-চামচ মধু ও লবঙ্গগুঁড়া (মধুর সমপরিমাণ) মিশিয়ে প্যাক হিসেবে লাগান। ব্রণ দূর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনই ব্যবহার করুন। এছাড়া শ্যাম্পুর সাথেও মধু ব্যবহার করতে পারবেন।

