
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে একটি নৌকা ডুবে পাঁচ জন অভিবাসী মারা গেছেন এবং নিখোঁজ হয়েছেন একজন৷ এছাড়া, একজন অভিবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন৷ রোববার অভিবাসীবাহী নৌকাটি উত্তর-পশ্চিম উপকূলে তুরস্কের কোস্টগার্ডের একটি নৌযানে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ স্থানীয় গভর্নরের অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷
এক বিবৃতিতে গভর্নরের অফিস জানিয়েছে, ৩৪ জন অভিবাসীকে বহন করা নৌকাটি চালাচ্ছিল এক পাচারকারী৷ কোস্টগার্ডের চোখ এড়িয়ে দ্রুত গতিতে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাওয়া নৌকাটি আইভালিক জেলার বাদাভুত উপকূলে কোস্টগার্ডের নৌযানের সঙ্গে ধাক্কা খায়৷
এতে আরো বলা হয়েছে, ধাক্কা খেয়ে ‘সমুদ্রে পড়ে যাওয়া পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ একজন নারী অভিবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷’
নিখোঁজ ওই ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে৷
এই নৌ দুর্ঘটনার তদন্ত করছে আইভালিক প্রসিকিউটরের অফিস৷
তুরস্কের সংবাদপত্র ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, গ্রিক দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে চাওয়া অভিবাসীদের কাছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটনের জন্য খ্যাত তুরস্কের আইভালিক৷
গত সপ্তাহে, রোডস দ্বীপের একটি সৈকতে দুই অনিয়মিত অভিবাসীর মরদেহ পাওয়া গেছে৷ ওই দুই অভিবাসীও তুরস্কের উপকূল থেকেই যাত্রা করেছিলেন৷ ধারণা করা হচ্ছে, উত্তাল এজিয়ান সাগর পাড়ি দেয়ার সময় তারা ডুবে গেছেন৷
ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাত এবং যুদ্ধ থেকে পালিয়ে ভাগ্য বদলের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমাতে চান মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা৷ এসব মানুষের কাছে গ্রিস অন্যতম একটি প্রবেশ পথ৷
এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার৷ চলতি বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় অধিকার তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে গ্রিস৷ এছাড়াও গ্রিক অভিবাসন মন্ত্রণালয় দেশটিতে অনিয়মিত প্রবেশের অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত এবং অনিয়মিতভাবে গ্রিসে অবস্থান করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন তৈরি করেছে৷
গ্রিসের বিরুদ্ধে বারবার অভিবাসীদের পুশব্যাক করার অভিযোগও আনা হয়েছে৷ যদিও গ্রিক সরকার কখনওই তা স্বীকার করেনি৷

