মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমাঞ্চলীয় স্কটল্যান্ডে তার নিজস্ব গলফ রিসোর্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার (২৮ জুলাই) এই রিসোর্টে কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং গাজায় ক্ষুধা সংকট নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। দুটি সরকারি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স

গতকাল রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দেয়ার পর ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন এতে স্টারমার খুশি হবেন।
ট্রাম্প বলেন, যদিও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তির সঙ্গে জড়িত নন। তারপরও তিনি খুশি হবেন। কারণে সেখানে একটি ঐক্য তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে স্টারমার আশা করছিলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের ওপর শুল্ক হ্রাস করবেন। কিন্তু রোববার ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ৫০ শতাংশ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্কে কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন এবং বলেছেন, ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ‘সম্পন্ন হয়েছে’।
ব্রিটেনের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রী জোনাথন রেইনল্ডস বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ব্রিটেনের জন্য তাদের যুক্তি তুলে ধরার একটি ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি প্রত্যাশা রাখছেন সোমবারই এ বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা আসবে।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে স্টকল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল টার্নবেরিতে অবস্থিত ট্রাম্পের লাক্সারি গলফ রিসোর্টে এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। পরে তারা আবারডেনের কাছে অবস্থিত ট্রাম্পের মালিকানাধীন দ্বিতীয় রিসোর্টে ভ্রমণ করবেন।
যদিও এই বৈঠককে কেন্দ্র করে শত শত পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে। ওই স্থানে বিক্ষোভকারীদের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।
রোববার একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, স্টারমার তার মন্ত্রীদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে ফিরিয়ে এনে মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করেছেন, যা সম্ভবত গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডাকা হয়েছে। কারণ দেশে ও বিদেশে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, ব্রিটেন শান্তি চুক্তির আলোচনার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে। কিন্তু এমন পরিকল্পনায় লেবার পার্টির নেতারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। কারণ তাদের প্রত্যাশা, ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাজ্য দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।
এদিকে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রোর ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনাকে উড়িয়েছে দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইসরায়েলও এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। গত বছর স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল।

