অবশেষে প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হল বুধবার। দীর্ঘ ৫৫ মাস পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফেরে ফুটবল। সমর্থকদের উল্লাসে এক অন্যরকম আবহাওয়া। ফুটবল উপযোগি এমন পরিবেশে শুরু থেকেই দাপট দেখায় বাংলাদেশ দল। তবে এদিন ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ বলে সমর্থকদের নজর ছিল হামজা চৌধুরীর ওপর।

তাদের তিনি হতাশ করেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দারুণ এক গোল উপহার দেন। বিরতির পর সোহেল রানা খুঁজে নেন প্রতিপক্ষের জাল। শেষ পর্যন্ত তাদের নৈপুণ্যে ভুটানকে সহজেই হারিয়ে আনন্দে মাতে লাল-সবুজদের প্রতিনিধিরা।
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বুধবার প্রীতি ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ দল। এরফলে আগামী ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিটাও সেরে নিল জামাল ভুঁইয়ারা।
দেশের জার্সিতে হামজার অভিষেক হয়েছিল গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। তবে তিনি বুধবার দেশের মাটিতে প্রথম খেলতে নামেন। শুরু থেকেই দেখান ঝলক। ষষ্ঠ মিনিটেই সমর্থকদের উল্লাসে মাতান। জামালের কর্নারে লাফিয়ে উঠে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন হামজা। দেশের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে গোল পেলেন ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। এই গোলের পর কিছুটা ছন্দ হারায় বাংলাদেশ!
২১তম মিনিটে নিজেদের অর্ধে তালগোল পাকিয়ে বল হারান তারিক। আক্রমণে ওঠা ভুটানের কিংমা ওয়াংচুককে আটকাতে গিয়ে গড়বড় পাকিয়ে ফেলতে বসেন তপু বর্মনও। তবে এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দ্রুতই পরিস্থিতি সামাল দেন। যে কারনে বাংলাদেশও বিপদ থেকে রক্ষা পায় সে সময়।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণের চেষ্টা করেন রাকিব। তার পাস ধরে কিরমানি বাড়ান ফাহামিদুলকে। এই তরুণ ফরোয়ার্ডের শট বলের লাইনে থাকা গোলরক্ষক ফিস্ট করে ফেরান। এরপরই জামালের শট যায় পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে।
বিরতির পর বাংলাদেশ কোচ খেলার ধরণে আনেন পরিবর্তন। যে কারণে আনেন তিনটি পরিবর্তন। হামজা, কাজেম ও জামালকে তুলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম, শেখ মোরসালিন ও মোহাম্মদ হৃদয়কে নামান কোচ। এ সুফলও স্বাগতিকরা পায় দ্রুত।
ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের বাড়ানো ক্রস ইয়েসি হেডে পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল যায় সোহেলের পায়ে। বাম পায়ের দারুণ ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই মিডফিল্ডার। একটু পর গোলরক্ষককে একা পেয়েও রাকিবের টোকার গন্তব্য পোস্টের বাইরে।
৫৯তম মিনিটে আরও দুটি পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। ফাহামেদুল ও রাকিবকে তুলে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও আল আমিনকে নামান তিনি। এ ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকের অপেক্ষা ফুরালো আল আমিনের। গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে প্রথম পরীক্ষার সম্মুখীন হন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল। সে সময় ফ্রি কিক আটকে উতরে যান তিনি। একটু পর ইয়েসির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ম্যাচে ফেরায় হয়নি ভুটানের। প্রতিপক্ষের এই ডিফেন্ডারকে পাহারায় রাখতে পারেননি তপু।
৮৬তম মিনিটে আল আমিনের ক্রস হেডে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন ভুটানের এক ডিফেন্ডার। কিন্তু বল তার সামনে থাকা মোরসালিনের গায়ে লেগে বাইরে যায়। একটু পর চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন।
ম্যাচের শেষ দিকে ভাগ্য সঙ্গে থাকলে ব্যবধান আরও বাড়ত বাংলাদেশের। কিন্তু পর্যাপ্ত সময়ে পেলেও ইব্রাহিম পারেননি ভুটান গোলকিপারকে পরাস্ত করতে। কাছের পোস্টে নেওয়া তার শট সহজেই আটকান গাইয়েলতসেন জাংপো।
এদিকে যোগ করা সময়ে ভুটান পেয়েছিল ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ। তবে দলটির জিগমে নামগায়েলকে হতাশ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল। প্রতিপক্ষ দলের নামগায়েলের নেয়া শট দারুণ দক্ষতায় সেভ করেন তিনি। এরপরই বাজে রেফারির ম্যাচ শেষের বাঁশি। সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে মাতে টিম বাংলাদেশ। আর গ্যালাতি দর্শকরা মাতে উচ্ছ্বাসে।

