ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় জুটি ওমর সানী-মৌসুমী। পর্দার প্রেম বাস্তবে রূপ দিয়ে তারা সংসার বাঁধেন প্রায় তিন দশক আগে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই তারকা দম্পতির আলাদা থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন পাড়ায় চলছে নানা মুখরোচক আলোচনা। মৌসুমী দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় অনেকে ধারণা করছেন, তাদের সম্পর্কের সুতো কি তবে ছিঁড়ে গেল? কেউ কেউ তো একধাপ এগিয়ে ডিভোর্স লেটারও দেখতে চেয়েছেন! এমন সব নেতিবাচক মন্তব্যে এবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওমর সানী। তার কড়া জবাব এবং প্রকৃত সত্য নিয়ে আজকের এই লেখা।

কেন আলাদা থাকছেন সানী-মৌসুমী?
দীর্ঘদিন ধরেই মৌসুমী অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে ওমর সানী দেশেই থাকছেন। এই ভৌগোলিক দূরত্বই জন্ম দিয়েছে হাজারো জল্পনার। তবে এই আলাদা থাকার পেছনে কোনো তিক্ততা নয়, বরং রয়েছে পারিবারিক দায়িত্ববোধ।
ওমর সানী জানিয়েছেন, মৌসুমী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব (গ্রিন কার্ড) লাভের প্রক্রিয়ায় আছেন। এছাড়া তার অসুস্থ মা এবং সেখানে বসবাসরত মেয়ের দেখাশোনা করার জন্যই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। সানী বলেন, “একজন মেয়ের জন্য তার অসুস্থ মায়ের পাশে থাকাটা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মৌসুমী এখন সেই ত্যাগটাই করছে।”
ডিভোর্স লেটার দেখতে চাওয়াদের ওপর সানীর ক্ষোভ
সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্রের অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তীতে একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ওমর সানী তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কড়া উত্তর দেন। তার মতে, কিছু মানুষ অকারণে অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলাতে পছন্দ করেন।
‘অসভ্যের মতো কথা’
ওমর সানী বলেন, “আমরা সেপারেট হয়ে গেছি, অমুক হয়েছি, তমুক হয়েছি—এগুলো শুনি। কিন্তু কিছু বাজে মেন্টালিটির মানুষ এগুলো বলে। অসভ্যের মতো কিছু মানুষ মনে করে আমরা আলাদা হয়ে গেছি। এসব কথা শুনে আমরা বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই।”
‘পাগলের সংখ্যা বেড়ে গেছে’
মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় তারা একসঙ্গে আছেন কি না, তখন সানী সোজাসুজি বলেন, “অনেকেই জ্যোতিষী হয়ে গেছেন। কেউ হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলেন। আসলে পাগলের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। অনেকে তো এখন ডিভোর্স লেটারও দেখতে চান! এসব নিয়ে আর নতুন করে বলার কিছু নেই।”

ভিসা জটিলতা ও দূরত্বের অবসান
ভক্তদের মনে প্রশ্ন ছিল, মৌসুমীর কাছে সানী কেন যাচ্ছেন না? এর উত্তরও দিয়েছেন এই নায়ক। তিনি জানান, তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি ইচ্ছা থাকলেও এই মুহূর্তে উড়াল দিতে পারছেন না। তবে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন তিনি। ভিসা পেলেই তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রী ও মেয়ের কাছে ছুটে যাবেন।
সানী আরও জানান, দূরত্বের কারণে যোগাযোগে কোনো ভাটা পড়েনি। তাদের একটি পারিবারিক ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন কথা হয় এবং তারা নিয়মিত ভিডিও কলেও যুক্ত থাকেন।
তারকা দম্পতিদের নিয়ে ট্রল সংস্কৃতি
আমাদের সমাজে সফল মানুষদের নিচে নামানোর একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ওমর সানী ও মৌসুমীর মতো আইকনিক জুটির দীর্ঘদিনের সংসার ভাঙার খবর ছড়াতে এক শ্রেণির মানুষ আনন্দ পায়। কিন্তু সানী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তাদের বন্ধন এখনো অটুট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: ভিউ এবং লাইকের নেশায় অনেক ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করেন।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: তারকাদেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে এবং সবসময় সবকিছু জনসম্মুখে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না।
সানী-মৌসুমী: এক অবিচ্ছেদ্য জুটির গল্প
নব্বই দশকের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই জুটি অগণিত দর্শককে মুগ্ধ করেছে। ‘দোলা’ সিনেমা থেকে শুরু হওয়া সেই প্রেম আজও টিকে আছে সম্মানের জায়গায়। ওমর সানীর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, তারা একে অপরের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। প্রতিকূল সময়ে মৌসুমীর মা ও মেয়ের পাশে থাকাকে তিনি সমর্থন করছেন, যা একজন আদর্শ জীবনসঙ্গীর পরিচয়।
সব জল্পনার অবসান
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ওমর সানী প্রমাণ করেছেন, বিশ্বাস থাকলে মাইলের পর মাইল দূরত্বও কোনো বাধা হতে পারে না। যারা ডিভোর্স লেটার দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন, তাদের প্রতি সানীর এই কড়া জবাব বিনোদন পাড়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তদের প্রত্যাশা, খুব দ্রুতই ভিসা জটিলতা কাটিয়ে ওমর সানী যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমীর পাশে থাকবেন এবং এই জনপ্রিয় জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে।

