যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি ড্রোন এক্স-৩৭ বি পৃথিবীতে ফিরেছে। এ ড্রোন বা চালকবিহীন যানটির রহস্যময় মিশন নিয়ে নানা জল্পনা–কল্পনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানা নাসার পুরোনো যুগের মহাকাশযানের একটি ছোট সংস্করণের মতো দেখতে ড্রোনটি। পৃথিবীর চারপাশে ৭১৮ দিন প্রদক্ষিণ শেষে গত রোববার এটি ফ্লোরিডার মাটি স্পর্শ করে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী।
ড্রোনটি ৩০ ফুট লম্বা। এর পাখার দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট। রকেটে করে পৃথিবীর কক্ষপথে এটি স্থাপন করা হয়। ২০১০ সালে এটি প্রথমবার ওড়ানোর পর থেকে এর আসল উদ্দেশ্য নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
অনেকে মনে করেন, এটি মহাকাশ থেকে বোমা ছোড়ার জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে, যাতে মুহূর্তের নির্দেশে পৃথিবীর কোনো বস্তুর ওপর আঘাত হানতে পারে। অনেকে আবার একে ‘কিলার স্যাটেলাইট’ বলেন, যা শত্রুর কৃত্রিম উপগ্রহকে ধংস করতে বা ক্ষতি করতে পারে। কেউ ভাবেন, এটা গোয়েন্দা প্লেন, যাতে শত্রু এলাকার ওপর নজরদারি করা যায়।
সামরিক কর্মকাণ্ড ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া কোনো আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে ভাবে। এ ছাড়া শত্রুর কৃত্রিম উপগ্রহে আঘাত হানার পদ্ধতি নিয়েও তারা কাজ করে।
২০১৫ সালে রাশিয়ার একটি কৃত্রিম উপগ্রহের রহস্যজনক আচরণ নিয়ে নানা গুঞ্জন ওঠে। ধারণা করা হয়, মস্কোর ওই কৃত্রিম উপগ্রহ অন্য কৃত্রিম উপগ্রহের কার্যক্ষমতা শেষ করে দিতে পারে।
অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এক্স ৩৭-বিকে সত্যিকার কোনো অস্ত্র বা গোয়েন্দা প্লেনের প্রটোটাইপ বলে সন্দেহ করেন। মহাকাশে স্থায়ী উন্নয়ন বিষয় নিয়ে কাজ করা সংস্থা সিকিউর ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ ভিক্টোরিয়া স্যামসন বলেন, পিকআপ ট্রাকের আকারের এক্স ৩৭ দেখে মনে হয় না এর পৃষ্টে কোনো কার্যকর অস্ত্র বসানো যাবে। এর শক্তির উৎস কেবল সৌরপ্যানেল হওয়ায় একটি মহাকাশে খুব কার্যকর কৃত্রিম উপগ্রহ বলে মনে হয় না।
নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলিটারি স্পেস প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মার্ক গাবরাড বলেন, এটা রণকৌশলে ব্যবহৃত গোয়েন্দা প্লেন বলে মনে হয় না। মহাকাশে রণকৌশলজনিত সক্ষমতা খুব বেশি নেই। এটি খুব বেশি উচ্চতায় যেতে পারে না। যদি গোপন গোয়েন্দা ড্রোন বানাতে হয়, তবে এত নিচ দিয়ে পাখাসহ তৈরি করা হতো না।
২০১৫ সালে অ্যামেচার স্যাটেলাইট ট্র্যাকারস নেটওয়ার্ক উৎক্ষেপনের ছয় দিন পর ড্রোনটি চতুর্থবারের মতো আকাশে ওড়ানো হয়। ২০১৫ সালে কক্ষপথ পরিবর্তন করে এটি কয়েক মাসের জন্য হারিয়ে যায়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটি আবার খুঁজে পাওয়া যায়। এ ড্রোনটিকে সম্ভাব্য অস্ত্রের চেয়ে পরীক্ষামূলক ড্রোন হিসেবেই ভাবছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মহাকাশে সেনসর ও নানা যন্ত্রপাতি কীভাবে কাজ করে, সেটি পরীক্ষার জন্যই ড্রোনটি কাজে লাগানো হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
গবেষণ স্যামসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যদি এ ড্রোন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে চায়, তবে সহজেই তা পারে। ড্রোনটি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করলেই গুঞ্জন কমবে
