বিভিন্ন দেশে আলোচিত স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার নেটওয়ার্ক উবারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের সঙ্গে মিলে উবার মঙ্গলবার বাংলাদেশের জন্য তাদের অ্যাপ চালু করেছে, যা ডাউনলোড করা যাচ্ছে অ্যাপল স্টোর এবং গুগল প্লে স্টোর থেকে। ওই অ্যাপ ব্যবহার করে নেওয়া যাচ্ছে উবারের ব্যতিক্রমী ট্যাক্সি সেবা।
এই সেবার জন্য উবারের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি আছে এমন যে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধনের মাধ্যমে উবারের চালক হয়ে যেতে পারেন। একই অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা পাবেন যাত্রীরা।
উবার ম্যাপে যাত্রীরা চালকদের তাৎক্ষণিক অবস্থান জেনে নিয়ে তাকে ডাকতে পারবেন। গাড়ির গতি, দূরত্ব, সময় অনুযায়ী উবার ম্যাপ তাদের মাণদণ্ড অনুযায়ী ভাড়া হিসাব করে দেবে। বাজে আচরণের জন্য যাত্রী বা চালক অ্যাপে রেটিং দিতে পারবেন।
উবারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ‘অন-ডিমান্ড’ এই পরিবহন সেবা মাত্র একটি বাটন চেপে যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালক-পার্টনারদের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবিধাজনক সুযোগ তৈরি করবে।”
উবারের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট অমিত জেইন বলেন, উবার খুব সাধারণ একটি লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, আর তা হল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের শহরগুলোর যানজট ও দূষণ কমানোর পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ করে তোলা।
“বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রযুক্তির শক্তিকে চালক, যাত্রী এবং শহরের সুবিধার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়ে আমরা রোমাঞ্চিত।”
উবার দৈনন্দিন পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
অনলাইন ট্র্যান্সপোর্টেশন নেটয়ার্ক কোম্পানি উবারের প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্র্যান্সিসকোতে। বাংলাদেশের পাশের দেশ ভারতেও উবারের অফিস রয়েছে। এর কার্যক্রম রয়েছে কলকাতাতেও।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখের বেশিবার উবারের ট্যাক্সিতে চড়া হচ্ছে। বিশ্বের ৭৪টি দেশের ৪৫০টি শহরের মানুষ বর্তমানে উবারের সেবা পাচ্ছে।
অন্য পেশায় থেকেও সুবিধাজনক সময়ে ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে বাড়তি রোজগারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবং যাত্রীদের জন্য সেবা পাওয়া সহজ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উবার। আবার যাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ২০১৪ সালে দিল্লিতে উবার নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।
অবশ্য ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়ায় খাটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনি বিষয়গুলো উবার কীভাবে সামাল দেবে এবং বাংলাদেশে এর অনুমোদনের বিষয়গুলো কবে কীভাবে সমাধা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি।
