বিয়ের সিজন আসছে, আর তাই আজ কথা বলব বিয়ের দিনের খুব সাধারণ কিছু বিষয় নিয়ে। প্রস্তুতি থাকলে যেকোনো ধরনের ছোটখাটো ঝামেলা থেকে দূরে থাকা যায়।
আর তাই আপনার বিশেষ দিনটির জন্য জানিয়ে দিচ্ছি কিছু টিপস অ্যান্ড ট্রিকস, যা কয়েকদিন পর যারা কনে সাজবেন তারা তো মনে রাখবেনই, যাদের কাছের কারো বিয়ে হচ্ছে অথবা এখনও বিয়ে করেননি, তারাও ভবিষ্যৎ রেফারেন্সের জন্য মনে রাখতে পারেন।
১. বিয়ের দিন শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য যদি আপনি নরমালি পরে অভ্যস্ত না এমন জুতা পরেন , তবে ফলাফল আপনার বিয়ের ছবিতে দেখতে পারবেন। নতুন জুতা কিনলে বিয়ের ৩-৪ দিন আগে থেকে পায়ে দিয়ে একটু হাঁটুন। এতে অনেক আরামদায়ক হবে, বিশেষ দিনটা উপভোগ করতে পারবেন।
২. নিজের পার্সে, অথবা কাছের কারো পার্সে এই জিনিসগুলো অবশ্যই রাখবেন- টিস্যু, সেফটিপিন, ব্লটিং পেপার, ফেসপাউডার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্পিয়ারমিনট (যদি মুখ তেঁতো লাগতে শুরু করে তো কাজে দেবে), অ্যাসপিরিন (এত শব্দের কারণে যদি মাথা ধরে)
৩. ব্রাইড’স মেইডের জন্য- বিয়ের দিন নিশ্চয়ই আপনার বোন, কাজিন অথবা বান্ধবীরা আপনাকে হেল্প করবে? ব্রাইড’স মেইডের কাজ শুধু ষ্টেজের শোভা বাড়ানো নয়। এমন বিশ্বস্ত কাউকে কাছে রাখুন, যে আপনার ভালো মন্দের দিকে খেয়াল রাখবে। পানি এনে দেয়া থেকে কুঁচকে যাওয়া ওড়না ঠিক করে দেয়া, সব কাজে যথাসাধ্য সাহায্য করবে। এমন কাউকে কাছে থাকতে অনুরোধ করলে অনেক অযথা ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।
৪. যেকোনো মুল্যে নিশ্চিত করুন যে, সব ফাংশানে আপনি ওয়াটার প্রুফ আই মেকআপ ব্যবহার করছেন। ( যদি আবেগঘন মুহূর্তে বিপদে পড়তে না চান) যারা মফস্বলের তারা যে পার্লার থেকেই সাজেন না কেন, কোন ভাবেই ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ বাদ দেবেন না।
৫. ফেসিয়াল স্প্রে বা মিস্ট রাখতে পারেন। এসির ভিতরে ভিডিও আর ফটোগ্রাফির চড়া লাইটে মেকআপ গলা শুরু করতে পারে। মিস্ট আপনার মেকআপ রাখবে ফ্রেস, সারাদিন ধরে।
৬. একজন ‘পয়েন্ট ইট পারসন’ রাখতে পারেন। খেয়াল করেছেন, বিয়ের দিন কনের মেকআপ বা পোশাক একটু এদিক ওদিক হয়ে গেলে কিছু মানুষ মুখ টিপে হাসা শুরু করে? আগে থেকে একজনকে বলে রাখবেন আপনার পোশাকের দিকে কড়া নজর রাখতে। স্পেশালই যখন কনে উঠে হাঁটাহাঁটি করবেন বা একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবেন। আপনার বিয়ের দিন মানুষকে হাসার সুযোগ দেবেন না।
৭. বিয়ের ২-৩ দিন আগে ফেসিয়াল করাতে যাবেন না। এই বিশাল ভুলটা যারা একেবারেই স্কিনকেয়ার করেন না তারা করে। বিয়ের ১ দিন আগে ফেসিয়াল করলে আপনি রুপকথার সুন্দরী হয়ে যাবেন না। বরং হঠাৎ অনভ্যস্ত ত্বকে এত ঘষাঘষি আর প্রোডাক্ট ইউজ করায় যে র্যাস আর ব্রণ হবে তা কীভাবে ঢাকবেন তাই নিয়েই চিন্তা করতে হবে সারাদিন।
৮. সব ধরনের ফেসিয়াল, ওয়াক্সিং মেনিকিউর, পেডিকিউর ১ সপ্তাহ আগে সেরে ফেলুন। এতে কোন রিঅ্যাকশন হলে ঠিক করে ফেলার টাইম পাবেন। বিয়ের ১ দিন আগে সুন্দরী হতে গিয়ে র্যাসে ভরা হাত, পা মুখ নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে দেখেছি পরিচিত অনেককে।
৯. জানি অনেক মেয়েই এটা করতে পারবেন না, তবুও, যদি চান বিয়ের দিন নিজেকে পারফেক্ট করতে, তবে খুব ভালো ভাবে জানুন, বিয়ের ভেন্যুতে লাইটিং, ফটোগ্রাফারের লাইটিং কেমন, বিয়ের দিনের আবহাওয়া কেমন হতে পারে ,ছবি কখন তোলা হবে, দিনে না রাতে? ফটোগ্রাফারের সাথে ভালোভাবে কথা বলুন। সব তথ্য আবার আপনার মেকআপ আর্টিস্টকে জানান। অভিজ্ঞ মেকআপ আর্টিস্ট আপনার লাইটিং, কস্টিউম সব কিছু মাথায় রেখে মেকআপ করলে একদম পারফেক্ট লাগবে আপনাকে বিশেষ দিনটিতে।
১০. অবশ্যই, মেকআপের আগে প্রাইমার ব্যবহার করবেন। প্রাইমার ব্যবহার না করে বিয়ের দিন মেকআপ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে প্যানকেকের আস্তর দিয়ে পরদিন মুখে একগাদা ব্রণ তুলে ফেলতেও দেখেছি অনেককে। নিশ্চয়ই চান না, বিয়ের পরদিন মানুষ আপনার ন্যাচারাল লুক দেখে ভয় পেয়ে যাক।
১১. চেষ্টা করুন বিয়ের দিনের আগেই সময় করে মেকআপ আর্টিস্টের সাথে একটু কথা বলতে। পারলে আপনার ড্রেস আর কী ধরনের লুক চাচ্ছেন তা বুঝিয়ে বলতে না পারলে নেট থেকে ছবি ডাউনলোড করে নিয়ে যান। একসাথে আপনার লুক প্ল্যান করুন। বিয়ের দিন হঠাৎ করে যাবেন আর সে আপনি যেমনি হন না কেন আপনার স্বপ্নের মত লুক দিয়ে দেবে।এমনটা সব সময় হয় না। তাই বাংলাদেশের বেস্ট মেকআপ আর্টিস্টের কাছ থেকে একগাদা টাকা খরচ করে মেকআপ নিয়েও কেউ সন্তুষ্ট হন না। যেহেতু আপনার মেকআপ আর্টিস্ট ‘মাইন্ড রিডার’ নয়, সেহেতু যত ভালোভাবে পসিবল তাকে আপনার নিড বুঝিয়ে বলুন।
১২. ন্যুড মেকআপ না করাটাই ভালো, আমাদের ট্রেডিশনাল আউটফিটের সাথে ন্যুড মেকআপ তেমন যায় না। একদম ন্যুড লিপস্টিক ব্যবহার করলে আপনাকে প্রাণহীন আর নির্জীব লাগবে। মভ বা ডাস্টি রোজ শেড বেছে নিতে পারেন। লুক বেশি চড়াও হবে না আবার সাদাটেও লাগবে না।
১৩. বিয়ে বলে পানি, খাবার না খেয়ে ঠায় বসে থাকবেন না যেন। প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি খান। এতে শরীর ঠাণ্ডা থাকবে আর অস্বস্তি কম হবে।
১৪. বেশি চিন্তা, দুশ্চিন্তা কোনটাই করবেন না। যদি প্যানিক লাগেও তবুও সব টেনশন মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে নরমাল ভাবে শ্বাস নেবেন।
১৫. সবশেষে মনে রাখুন, এই দিনটা আপনার জন্য পুরো ব্যাপারটা উপভোগ করুন। সবার সাথে কথা বলুন, হাসুন আর খুশি থাকুন। সারা জীবনের স্মৃতিটাও হবে আনন্দের!
