বার্তাবাংলা ডেস্ক :: আমস্টারডম শহরের ব্যস্ত রাস্তা। একটি নগ্ন মেয়ে প্রাণপনে দৌড়াচ্ছে। তাকে অনুসরণ করে ক্যামেরা ক্রুরা ছুটছেন সমান তালে। কী হতে পারে ব্যাপারটা। ভাবছেন শুটিং? হতেও পারে। সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে কতকিছুই তো করতে হয় অভিনেতাদের।
যে মেয়েটি ওভাবে দৌড়াচ্ছে তার নাম স্যাবাইন। মাথাভর্তি সোনালী চুল। ঝুলের নীল রঙের শার্টে দারুণ দেখাচ্ছে তাকে। স্যাবাইনকে হয়তো অনেকেই ভেবেছে কোনো মডেল বা অভিনেত্রী। আবার কেউ ভুল করেছে কোনো টিভি শো’য়ের মডেল ভেবে। কিন্তু না, তার কোনোটিই নয় স্যাবাইন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তাহলে এই ছাত্রীকে ঘিরে কী কারণে সংবাদ মাধ্যমের কৌতূহল?
ব্যস্ত শহরের রাস্তায় হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গেলেন স্যাবাইন। সবার চোখ যেনো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। এসব কী করছে মেয়েটি? পাগল নাকি?
নগ্ন অবস্থায় মেয়েটি রাস্তায় নেমে পড়লো। ভিড়ের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে ভোঁ দৌড়। অবশ্য বেশি সময় না। খুব অল্প সময়ে শেষ হল এ নগ্ন দৌড়বাজি। স্যাবাইন তার নিজের জায়গায় ফিরে এলেন এবং যথারীতি আবার সেই ঝালরওয়ালা নীল ফুলহাতা শার্টটা গায়ে জড়ালেন।
চলতি পথের মানুষরা আবার ও থমকে গেলেন। আবারও কিছু একটা করতে যাচ্ছে মেয়েটি। ক্যামেরা চলছে। বালতি ভর্তি বরফঠাণ্ডা পানি। চোখ বন্ধ করে গায়ে ঢাললেন। মেয়েটির কাণ্ডকারখানায় বেশ অবাক আমস্টারডাম শহরের পথচারীরা। কিন্তু সবার চোখে মুখে জিজ্ঞাসার চিহ্ন। কেন মেয়েটি নগ্ন হয়ে দৌড় দিল আর কেনই বা বরফডাণ্ডা পানি গায়ে ঢাললো?
স্বাভাবিক হয়ে স্যাবাইন নিজেই ব্যাপারটা পরিষ্কার করলেন। অভাবের কারণে সংসারে তো বটেই তার নিজের পড়াশুনা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কোনোভাবেই সে তার শিক্ষার খরচ বহন করতে পারছিলেন না। স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেল নগ্ন দৌড় চ্যালেঞ্জের বিজ্ঞাপন দেয়। বলা হয় ঠিকঠাক মতো যে কাজটি করতে পারবে তার শিক্ষাজীবনের পুরোটাই বহন করবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। আর তাই পড়ার খরচ যোগাতে চোখ বন্ধ করে স্যাবাইন লুফে নেন সেই চ্যালেঞ্জ। নেমে পড়ে নগ্ন দৌড়বাজিতে!
