
জার্মানির প্রশাসনিক আদালতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তুলনামূলকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অব জাজেস৷ যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুসারে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রথম পছন্দের দেশের তালিকায় আর শীর্ষে নেই জার্মানি৷
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জার্মানির প্রশাসনিক আদালতে মোট ৭৬ হাজার আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে৷ দেশটির প্রশাসনিক আদালতের বিচারকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব জাজেস-এর প্রকাশিত জাজেস জার্নালে এই তথ্য উঠে এসেছে৷
জার্মানির সংবাদ মাধ্যম রিডাকৎসিয়ননেটৎসভেয়ার্ক ডয়েচলান্ড এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের আবেদনের সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেড়েছে৷ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জমা হওয়া আবেদনের সংখ্যা ২০২৩ সালে পুরো বছরে জমা হওয়া আবেদনের সংখ্যার দ্বিগুণ৷ ২০২৪ সালের তুলনায়ও তা অনেক বেশি৷
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি এবং বাডেম ভ্যুর্টেমবের্গ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে৷
অবশ্য বিচারকেরা বলছেন, জার্মানির অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক অফিসে আশ্রয় আবেদনগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করার কারণে আদালতে আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে৷
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাড়ছে
আদালতে আবেদনের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করতে আগের তুলনায় কয়েক মাস বেশি লাগছে বলে জানা গেছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানির হেসে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে, যেখানে একটি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১৯ মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে৷ আর দেশটির রাইনলান্ড-প্লাটিনাটে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে৷
পছন্দের তালিকায় নেই জার্মানি
এদিকে ইইউর তথ্য মতে, জার্মানিতে প্রথমবারের মতো আবেনের সংখ্যা কমে এসেছে৷ পরিসংখ্যান বলছে, নতুন করে আবদেন তালিকার শীর্ষে নেই জার্মানি৷
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জার্মানিতে ৭০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়েছে, যা তালিকার তৃতীয় অবস্থান৷ ৭৮ হাজার আবদন নিয়ে প্রথমে রয়েছে ফ্রান্স এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনে জমা হয়েছে ৭৭ হাজার আশ্রয় আবেদন৷
ধারণা করা হচ্ছে, আশ্রয়প্রার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষ অবস্থানে আর নেই জার্মানি৷
এদিকে, চলতি বছর আশ্রয় আবদনের সংখ্যা কমে এসেছে বলে জানিয়েছে ইইউর অ্যাসাইলাম এজেন্সি৷ সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইইউভুক্ত দেশ, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডে মোট চার লাখ আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে৷ এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ ভাগ কম৷

