
এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বল-ব্যাট হাতে দাপট দেখাল বাংলাদেশ দল। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে বল করতে নেমে আগুন ছোটান তাসকিন আহমেদ। সতীর্থরাও তাকে দেন দারুণ সঙ্গ।
এ সুবাদে জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্যমাত্রা পায় টিম টাইগার্স। জবাব দিতে নেমে শুরুটা দারুণ করেন ওপেনাররা। তবে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমন।
অন্যদিকে তানজিদ তামিম নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। তবে জ্বলে ওঠেন লিটন দাস। তোলেন ঝড়। ২৯ বলে করেন হাফসেঞ্চুরি। অন্যদিকে ২ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা সাইফ হাসানও চেনান নিজের জাত। সব মিলিয়ে সহজ জয়েই সিরিজ শুরু করল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
শনিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটে। এরফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল। সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে নেদারল্যান্ডস।
সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন তেজা। বাংলাদেশের হয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন তাসকিন। জবাব দিতে নেমে ১৩ ওভার তিন বলে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ফিফটি করেন লিটন।
১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের প্রথম তিন বলের তিনটিই সীমানা ছাড়া করেন পারভেজ হোসেন ইমন। উড়ন্ত সূচনা পাওয়া এই ওপেনার অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। আরিয়ান দত্তের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ৯ বলে ১৫ রান করেছেন এই ওপেনার।
এদিকে তিনে নেমে বেশ সাবলিল ব্যাটিং করেন লিটন দাস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তানজিদ তামিম। শুরু থেকেই দেখে-শুনে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তামিম। তবে উইকেটে থিতু হওয়ার পর ফুলটস ডেলিভারিতে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া খানিকটা দৃষ্টিকটুই। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে ২৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
তানজিদ ফিরলেও দারুণ খেলে ফিফটি তুলে নেন লিটন দাস। এই মাইলফলক ছুঁতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ২৬ বল। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৪ রান করেছেন লিটন। আর চারে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেছেন সাইফ হাসান। তাতে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের প্রথম ওভারেই শেখ মেহেদি জাদু দেখান। প্রথম ওভারে ডানহাতি এই অফ স্পিনার বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে পেস আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তিন বাউন্ডারি হজম করেন শরিফুল ইসলাম।
এক ওভার করার পরই তাসকিন আহমেদকে আক্রমণে আনেন লিটন। তাতেই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের করা প্রথম বলেই ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন। মিডল-লেগ স্টাম্পের ওপর করা গুড লেংথের বলে শর্ট কভারে জাকের আলির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ম্যাক্স ও’ডাউড। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ বলে ২৩ রান।
অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আবারো প্রথম বলেই উইকেট নেন তাসকিন। এবার তার শিকার ভিক্রমজিত সিং। এদিকে লম্বা সময় পর দলে ফিরে বল হাতে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই ২ উইকেট শিকার করেন সাইফ হাসান। তাতে ম্যাচের মোড় টাইগারদের দিকে ঝুলে যায়।
ইনিংসের ১০ম ওভারের চতুর্থ বলটি লেগ স্টাম্পের ওপর করেছিলেন সাইফ, সেখানে প্যাডল সুইপ করেন স্কট এডওয়ার্ডস। তবে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। তাতে বল চলে যায় লং লেগে, খানিকটা দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ নেন জাকের।
৭ বলে ১২ রানের বেশি করতে পারেননি ডাচ অধিনায়ক। দুই বল পরই তেজা নিদামিনুরুকেও ফিরিয়েছেন সাইফ। এবারও একই ধরনের ডেলিভারিতেই উইকেট পেয়েছেন এই স্পিনার। তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৬ রান করেছেন এই ব্যাটার।
৮৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো ডাচরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় দলটি পায়নি লড়াইয়ের পুঁজি তুলতে। তাই জিততে বাংলাদেশের তেমন কোন কষ্টই করতে হয়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নেদারল্যান্ডস: ২০ ওভারে ১৩৬/৮ (নিদামানুরু ২৬, ও’ডাউড ২৩, প্রিঙ্গল ১৬, শারিজ ১৫; তাসকিন ৪/২৮, সাইফ ২/১৮, মোস্তাফিজ ১/১৯)।
বাংলাদেশ: ১৩.৩ ওভারে ১৩৮/২ (লিটন ৫৪, সাইফ ৩৬, তানজিদ ২৯, পারভেজ ১৫; প্রিঙ্গল ১/১৬, দত্ত ১/৩০)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ৩–ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে।
ম্যাচসেরা: তাসকিন আহমেদ।

