
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে গৃহবন্দী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) বিচারক এই আদেশ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই আদেশ দেন। খবর বিবিসি
আদালতের এই আদেশের ফলে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাবেক ডানপন্থী এই রাজনীতিক ও আদালতের মধ্যকার টানাপোড়েন আরও বাড়ল। সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলসোনারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র। ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হেরেও ক্ষমতা ধরে রাখার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে এখন বিচার চলছে।
এর আগে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে ওঠায় গতিবিধি নজরদারিতে রাখতে গত মাসে বলসোনারোকে (৭০) পায়ে ইলেকট্রিক কড়া পরানোর নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে তার ছেলেরা ও মিত্ররা বলসোনারোর জ্বালাময়ী ভাষণগুলো অনলাইনে দিয়েছিল। জনগণের উদ্দেশে দেয়া এ ধরনের ভাষণ অনলাইনে প্রচার তৃতীয় পক্ষের ওপরও নিষিদ্ধ করা হয়।
গত রোববার বলসোনারোর প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্রাজিলের কয়েকটি শহরে সমাবেশ হয়। এর মধ্যে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ছেলের সঙ্গে তার সরাসরি ফোনালাপ সম্প্রচার করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন বলসোনারোর মিত্ররা।
এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেক্সান্দ্রে ডি মোরায়েস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সোমবার তিনি বলেন, বিচার বিভাগ একজন আসামিকে তার ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার’ কারণে এই বিভাগকে বোকা ভাবার সুযোগ দেবে না।
আদালতের বিধিনিষেধ বারবার অমান্য করায় বলসোনারোর সমালোচনা করে তাকে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার বাড়িতে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে দেশটির সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে তার আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে দেখা করতে এবং মুঠোফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

