সৌদি আরবে বসবাস, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন ভঙ্গের অভিযোগে ২২ হাজার ১৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ধরপাকড় দেশের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩৫ জন অবৈধভাবে সৌদিতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া চার হাজার ৭৭২ জনকে ধরা হয়েছে সৌদির সীমান্ত অবৈধভাবে অতিক্রমের সময়, এবং আরও তিন ৫৪০ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হওয়া এক হাজার ৮১৬ জনের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের। আরও ৩৪ জনকে আটক করা হয় যারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে প্রবেশকারীকে সহায়তা করবে বা আশ্রয় দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার সাধারণ নাগরিকদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেখলে তা দ্রুত সংবাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মক্কা ও রিয়াদ অঞ্চলের জন্য ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে ফোন করে এই অভিযোগ জানানো যাবে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ও আফ্রিকার কিছু দেশের রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশটিতে অভিবাসন প্রবণতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভ্যন্তরীণ শ্রম বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে সৌদি সরকার নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই শ্রমবাজার সংস্কার এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু নিরাপত্তার দিক থেকেই নয়, শ্রমনীতি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সৌদির নীতিগত পরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত দেয়।
সূত্র : আরব নিউজ

