বাংলাদেশে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের ঘুম নেই। দিন-রাত তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। উঠান বৈঠক করছেন। বিশাল সভা-সমাবেশ-মিছিল করছেন। হাট-বাজার-চা স্টলে গণসংযোগ করছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। ভোটাররাও দীর্ঘ সতের বছর পর মুক্ত পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধিকে বেছে নেয়ার সুযোগ পেয়ে চাহিদার তালিকা দীর্ঘ করছেন। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, শান্তি-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাসহ চাঁদাবাজি, দখলমুক্ত একটি নিরাপদ দেশ গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছেন। ফলে সারা দেশেই এখন এক রকমের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অঙ্গন হয়ে উঠেছে ব্যাপক কর্মচঞ্চল। শহর থেকে গ্রাম, চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম, সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—কে হচ্ছেন পরবর্তী জনপ্রতিনিধি?
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দেশজুড়ে বইছে প্রচারণার ঝড়। ডিজিটাল প্রচারণার পাশাপাশি চলছে জমজমাট উঠান বৈঠক এবং জনসভা। প্রার্থীদের নির্ঘুম রাত কাটছে ভোটারদের মন জয় করার প্রচেষ্টায়। আর সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা।
নির্বাচনি এলাকায় গেলেই চোখে পড়ছে প্রার্থীদের বিরামহীন তৎপরতা। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। শীতের সকাল হোক বা তপ্ত দুপুর—বিশ্রামের ফুরসত নেই কারোরই।

রাজধানীর একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এক প্রার্থী বলেন, ঘুম এখন আমাদের বিলাসিতা। ভোটারদের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এই কয়েকটা দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে কেউ মনে না করেন যে, আমি তাদের অবহেলা করেছি।
শুধু বড় বড় জনসভা নয়, প্রার্থীরা এখন জোর দিচ্ছেন ‘ডোর-টু-ডোর’ ক্যাম্পেইনে। প্রবীণদের পা ছুঁয়ে সালাম করা, তরুণদের সাথে সেলফি তোলা আর সাধারণ মানুষের সাথে বসে চা খাওয়া—সবই এখন নির্বাচনি কৌশলের অংশ।
নির্বাচনি প্রচারণা এখন শুধু মাইকিং আর মিছিলে সীমাবদ্ধ নেই। পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নির্বাচনি ক্যাম্প। সেখানে সাউন্ড বক্সে বাজছে প্রার্থীদের গুণকীর্তন সম্বলিত প্যারোডি গান। ভোটের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারও। ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে চলছে ডিজিটাল যুদ্ধ। প্রার্থীরা নিয়মিত লাইভ সেশনে এসে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা ও উদ্দীপনা : দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের আভাস পেয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এমন অনেক শিক্ষার্থী জানান, তারা এমন একজনকে বেছে নিতে চান যিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেবেন। হাতিরঝিল এলাকার সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নেতারা তো ভোটের সময় অনেক কথা বলেন। আমরা চাই এমন সরকার, যারা বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রধান তিনটি চাহিদা হলো : ১. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস; ২. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও স্বচ্ছতা এবং ৩. হানাহানি ও সংঘাতমুক্ত সুন্দর সামাজিক পরিবেশ।

