বার্তাবাংলা ডেস্ক :: প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর ইরাকে আবারও কর্মী পাঠানো শুরু করেছে বাংলাদেশ।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে জানান, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ইরাকে আবার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। ওই দিন ৩০ জন বাংলাদেশি ইরাকের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। আর আজ বিকেল পর্যন্ত গেছেন আরও ১০ জন।
তবে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, ২ সেপ্টেম্বর মোট ৭২ জনকে ইরাকে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ইরাকের তিকরিত, মসুলসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধাবস্থার কারণে গত ১৪ জুন থেকে কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে কয়েক শ বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। কিন্তু সম্প্রতি যাওয়া বেশির ভাগ বাংলাদেশিই খরচের টাকা তুলতে পারেননি বলে ইরাক থেকে দেশে ফিরতে রাজি হননি।
একসময় বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার ছিল ইরাক। কিন্তু ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় ইরাকে থাকা বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্যে ২০০৩ সালে আবার ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৯ সালে ৪১২ জন কর্মী যাওয়ার মধ্যে দিয়ে ইরাকে আবার বাংলাদেশি যাওয়া শুরু হয়। পরের বছর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকে বাংলাদেশের দূতাবাস চালু হয়। ওই বছর ২ হাজার ২৮৮ জন বাংলাদেশি ইরাকে যান। এরপর ২০১১ সালে ২৩৪ জন এবং ২০১২ সালে ৩৫৯ জন বাংলাদেশি ইরাকে যান। কিন্তু ২০১৩ সালে সাত হাজার ৪৫৬ জন এবং ২০১৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬ হাজার ৩৪ জন বাংলাদেশি ইরাকে যান। কিন্তু জুনের মাঝামাঝি যুদ্ধাবস্থার কারণে আবার ইরাকে লোক পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। আড়াই মাস পর ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার ইরাকে কর্মী যাওয়া শুরু হলো।
ইরাকপ্রবাসীরা অবশ্য জানিয়েছেন, বৈধভাবে ১৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি গত কয়েক বছরে ইরাকে এলেও এখানে অন্তত ৫০ হাজার বাংলাদেশি আছেন। এঁদের বেশির ভাগই এসেছেন অবৈধভাবে।
ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (শ্রম) মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা চলাচলে। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, যেকোনো জায়গায়। তাই বলে কাজকর্ম থেমে নেই। তবে আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হতাহত হননি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে ফের বাংলাদেশি কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। যাঁরা আসছেন সবার জন্য একটাই পরামর্শ, সতর্কভাবে চলাফেরা করবেন।’
