বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: কাগজ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা যায়, খালার কাছ থেকে এমন গল্প শুনেছিলেন নাজনীন। তারপর টানা দুই বছর চেষ্টার পর পুরনো কাগজ, সংবাদপত্র ও ব্যবহৃত কার্টন দিয়ে তৈরি করতে শুরু করেন বিভিন্ন আসবাব। সোফা থেকে শুরু করে টি টেবিল, টুল, চেয়ার, ফুলদানি, মোড়া, আলনা, পিঁড়ি তৈরি করেছেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ না থাকলেও কাগজ দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করে এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নাজনীন । সংগ্রামী ও সৃজনশীল এ নারীর বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে খোর্দ্দ নারায়ণপুর গ্রামে। স্বামী-সন্তানসহ বাবা আবদুল লতিফের বাড়িতেই থাকেন তিনি। নাজনীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ঘরে কাঠের বা স্টিলের কোনো আসবাব নেই। সব কাগজের তৈরি। দেখতে সুন্দর এবং বৈচিত্রপূর্ণ। নাজনীন জানান, রাতের বেলা কাগজ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরের দিন সকালে ভেজা কাগজ দিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। এগুলো প্রথমে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপান্তর করে আসবাব তৈরি করা হয়। পরে বিভিন্ন রং করা হয়। তিনি আরোও জানান, এগুলো তৈরির পর রোদে শুকাতে হয়। ভালো করে না শুকালে তেমন শক্ত হয় না। একবার তৈরি করে রোদে শুকালে কাঠের আসবাবপত্রের মতই শক্ত ও মজবুত হয়। তাই বর্ষার সময় এসব তৈরি করা যায় না। তিনি দাবি করেন, স্টিল, লোহা বা কাঠের আসবাবপত্রে মরিচা বা ঘুণে ধরলেও ভালো করে শুকানো কাগজের তৈরি আসবাবে ঘুণপোকা বা মরিচা ধরে না। নাজনীনের তৈরি এসব আসবাব এখনো শুধু তার বাড়িতেই ব্যবহৃত হচ্ছে। বাজারজাত করার সুযোগ পেলে এসব আসবাবের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ারা বেগম বলেন, ‘নাজনীনের তৈরি এসব সামগ্রীর কদর রয়েছে। তবে বাজার সৃৃষ্টিতে প্রশাসনের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।’ – See more at: http://www.risingbd.com/detailsnews.php?nssl=5497a1e2fb91bb569acefe3613ca1809#sthash.uhcZhvor.dpuf
মন্তব্য যুক্ত করুন
