বার্তাবাংলা ডেস্ক::মহাসাগরের ঢেউয়ের নিচে ডুবে যাওয়া আটলান্টিস নগরের কথা আমরা পৌরাণিক উপকথায় শুনি। তবে চীনে বাস্তবেই এ রকম একটি নগরের অস্তিত্ব রয়েছে। ভ্রমণ রসিকরা যার নাম দিয়েছে ‘প্রাচ্যের আটলান্টিস’। চীনের মান্দারিন ভাষায় শহরটির নাম ‘সিচেঙ্গ’ যার বাংলা করলে দাড়ায় ‘সিংহ নগর’।
নগরটি চীনের জাঁকজমকপূর্ণ, রহস্যময় চীনা সাম্রাজ্যের ঐহিহ্যের ধারক হিসেবেই কাজ করছে। সাংহাই থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরের ঝেজিয়াং প্রদেশের কিয়ান্দো হ্রদের ৪০ মিটার নিচে স্বগর্বে নিজের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মিং ও কিং সম্রাটদের আমলে গড়ে ওঠা নগরটি।
তবে কোনো দুর্যোগে ডুবে যায়নি প্রাচ্যের এই আটলান্টিস বরং ইচ্ছাকৃতভাবেই নগরটিকে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল। ১৯৫৯ সালে জিনআন ড্যাম এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত হাইড্রোলিক স্টেশনের জন্যই নগরটি পানির নিচে তলিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে শহরিটর তিন লাখ মানুষকে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। এদের অধিকাংশই নগরটিতে কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস করে আসছিল।
ডুবিয়ে দেয়ার দীর্ঘ দিন পর ২০০১ সালে চীনা সরকার আবার নগরটির দিকে নজর দেয়। উদ্দশ্যে ছিল দীর্ঘ দিন আগে ডুবিয়ে নগরটির বর্তমান অবস্থা জানা। ২০১১ সালে নগরটির বেশ কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। এরপর থেকেই নতুন করে আগ্রহের জন্ম দেয় নগরটি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ছবিগুলো দেখে মনে হয় নগরটি এখনো তার স্বর্ণযুগ পার করছে।
প্রাপ্ত ছবিগুলো থেকে দেখা যায় নগরটির পাঁচটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। এছাড়াও নগরটির ২৬৫টি খিলান রয়েছে। এসব খিলানে সিংহ, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ঔতিহাসিক জিনিসের ভাষ্কার্য রয়েছে। ধারণা করা হয় ১৬ শতকে নির্মিত নগরীটির দেয়ালের গায়ে লেগে থাকা এসব খিলান ১৭৭৭ সালের দিকে নির্মিত হয়েছে। পানির নিচে থাকলেও নগরটি এখনো অক্ষত রয়েছে। পানিই সম্ভবত নগরটিকে বৃষ্টি, হাওয়া, আর সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করে রেখেছে।
