বার্তাবাংলা ডেস্ক:বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দোলনের দু’দিন পর এবার কোটা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে।এ দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ নামে দুটি সংগঠন। কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে সংগঠন দুটির নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শিবিরের পাতানো ফাঁদে পা দেবেন না। মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৩০ ভাগ কোটা কারও করুণা নয়।”নেতারা আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার সন্ত্রানরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার পরিচয় দিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে এই কোটা পদ্ধতিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চাকরি পেতে শুরু করে। ২০০১ সালে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর তা কাগজে-কলমে থেকে যায়।”সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক জয়ন্ত আচার্য্য, সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুজ্জামান ভুট্টো, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, প্রচার সম্পাদক শাহপরাণ সিদ্দিকী তারেক প্রমুখ।কোটা বাতিলের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ’ শীর্ষক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “কোটা বাতিল নয়, বরং স্পেশাল বিসিএসের ক্যাডারভুক্ত সব পদে কোটা পূরণের দাবিতে আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”কোটাপ্রথা বাতিলের দাবিতে বর্তমানে যে আন্দোলন চলছে তা জামায়াত-শিবিরের ইন্ধনে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কোটা-পদ্ধতি বাতিল ও ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন কয়েকশ’ চাকরিপ্রার্থী। ফলে ওই এলাকা দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট।অবরোধের সাড়ে সাত ঘণ্টার মাথায় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।তবে শাহবাগ অবরোধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি ‘বিসিএস-বঞ্চিতরা’। বিরতি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আবার অবরোধ চালানোর ঘোষণা দেয় তারা।এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশি হস্তক্ষেপে শাহবাগ মোড়ে পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিছু হঠার সময় শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত সড়কে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনেও ভাংচুর চালায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনরত কয়েকশ’ শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকে ভাংচুর করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বৃহস্পতিবারের সহিংসতার ঘটনায় ‘বিসিএস-বঞ্চিতদের’ বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
