জলবায়ু পরিবর্তন সীমিত করা না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তাপ-সম্পর্কিত মৃত্যুর কারণে ঝুঁকির মুখে পড়বেন অন্তত দেড় মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক নতুন সরকারি প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ন্যাশনাল ক্লাইমেট রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট বা জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রায় ৫ লাখ ৯৭ হাজার মানুষের বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশ পেল, যখন ফেডারেল সরকার ২০৩৫ সালের নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত থাকে, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ০.১৪ মিটার। কিন্তু উষ্ণায়ন ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়বে প্রায় ০.৫৪ মিটার। এর মধ্যে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ, কারণ দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ অঞ্চলের মধ্যে ১৮টিই কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়ে, তবে ২০৯০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৩০ লাখেরও বেশি বাড়িঘর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে পড়বে।
একই পরিস্থিতিতে, তাপ-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার সিডনিতে ৪৪৪ শতাংশ এবং মেলবোর্নে ২৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা যায়, তবে সিডনিতে এ মৃত্যুর হার ১০৩ শতাংশ এবং মেলবোর্নে ৬০ শতাংশ বাড়বে।
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়ানরা ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভোগ করছেন। কিন্তু আজ আমরা যত ডিগ্রি উষ্ণায়ন ঠেকাতে পারব, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ততটা বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়কাল (১৮৫০-১৯০০)-এর তুলনায় ইতোমধ্যেই ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। তবে ১৯১০ সালে জাতীয় জলবায়ু রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু নিজস্বভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে।
৩ ডিগ্রি উষ্ণায়নের পরিস্থিতিতে, অস্ট্রেলিয়ার অসংখ্য প্রজাতিকে হয় স্থান পরিবর্তন করতে হবে, নয়তো নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে, অথবা বিলীন হয়ে যেতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ দেশীয় উদ্ভিদ এমন পরিবেশে পড়বে, যা তারা আগে কখনোই অভিজ্ঞতা করেনি।
সূত্র : আনাদোলু

