
চাকরি কাড়বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) বা এ আই। বিগত কয়েক বছরে বিষয়টা বেশ চর্চায় উঠে এসেছে। বাস্তবে তা সত্যিও হয়েছে বহুবার। এআই-এর জন্য চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কখনও চাকরি কাড়তে পারবে না এআই, এমনটা জোর গলায় বলেছিলেন অনেকে। সে তালিকায় চিকিৎসকরা ছিলেন উপরের দিকে।
জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, এআই সব পারে। চাইলেই তাকে দিয়ে সেসব করিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসা? তা নিশ্চয়ই ভরসাযোগ্য হবে না। যদিও বাস্তবে হচ্ছে ঠিক উলটোটা। শারীরিক সমস্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শই ভরসা যোগাচ্ছে অনেককে।
এ প্রসঙ্গে কী বলছেন চিকিৎসকরা?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) চিন্তায় ফেলেছে সেই চিকিৎসকদেরও। একাংশ মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে শারীরিক সমস্যায় পরামর্শ দেওয়ার ভরসাযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিষয়টা যে এই মুহূর্তে একেবারে অলীক কল্পনা তা নয়। অর্থাৎ অনেকেই রয়েছেন যারা ইতিমধ্যে নিজেদের শারীরিক সমস্যা সমাধানে এআই-এর দ্বারস্থ হচ্ছেন। তার ফল হচ্ছে মারাত্মক।
শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘ চিকিৎসাতেও সারেনি এমন রোগ কয়েক মিনিটে সারিয়ে দিয়েছে এআই। তাও আবার সাধারণ ঘরোয়া টোটকা। সেসব অভিজ্ঞতা নেটদুনিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন উপকৃত ব্যক্তিরা। সেই দলে আইটি কর্মী থেকে উকিল, ব্যবসায়ী সকলেই রয়েছেন। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা পড়ে নেটদুনিয়ার বাসিন্দারাও অবেক। নিছক কৌতুহলের বশে কেউ কেউ বিষয়টা খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। তাতেও নাকি লাভ বই ক্ষতি হয়নি কারও।
এমনিতে নিজেই নিজের ডাক্তারি করে নেওয়ার অভ্যাস অনেকের থাকে। পুরনো কোনও রোগের ওষুধ, স্রেফ লক্ষন এক হওয়ায় আবার ব্যবহার করে ফেলেন অনেকে। তাতে কখনও লাভ হয়, কখনও মারাত্মক ক্ষতি। সবথেকে বেশি এমন প্রবণতা দেখা যায় চর্মরোগের ক্ষেত্রে। একটা মলম বাড়িতে থাকলেই হল, যে কোনও সমস্যায় সেটাই ব্যবহার করা যাবে। পেটের সমস্যা বা জ্বর হলেও সেই পদ্ধতিতেই নিরাময়। স্রেফ অ্যালোপাথি নয়, আয়ুর্বেদ বা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় যারা বিশ্বাসী, তাঁরাও এমনটা করেই থাকেন। এতে অবশ্য চিকিৎসকরা বেজায় চটে যান। কারণ এই প্রবনতা অনেক সময় রোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ব্যাপারটাকে কিছু উচ্চপর্যায় নিয়ে যায় গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন। পুরোপুরি নিজের উপর ভরসা না করে গুগলে সমস্যার কথা লিখে পরামর্শ চাইতেন অনেকে। তাতেও লাভের লাভ হত না। বরং আরও বাড়ত সমস্যা। এইসব দেখেই মোটের উপর কেউ কেউ এমন ধারণা করেছিলেন, রোগ নিরাময়ে চিকিৎসকই একমাত্র ভরসা।
এমন একটা আবহে বাজারে এল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)। কৌতূহলের বশেই তাকে শারীরিক সমস্যার কথা জানাতে থাকলেন কেউ কেউ। তবে এবার আর ভুল পথ দেখায়নি প্রযুক্তি। বরং এমন উপায় বাতলে দিয়েছে যা সহজেই রোগ নিরাময় করেছে। তাই উত্তরোত্তর বেড়েছে এআই-র কাছে পরামর্শ চাওয়ার ধূম। প্রতিক্ষেত্রেই নাকি অব্যর্থ লক্ষভেদ করেছে এআই। মানে সকলেই সুস্থ হয়েছেন তার পরামর্শ মেনে।
কেউ দাবি করছেন দীর্ঘদিনের পুরনো কোমরের ব্যথা সেরে যাওয়ার। কেউ বলেছেন কাশি উধাও হয়েছে। কেউ আবার বড় রোগের আগাম আভাস পেয়েছে এআই-এর থেকেই(Artificial Intelligence)। কিছুক্ষেত্রে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যে চিকিৎসক বলতে পারেননি বা গুরুত্ব দেননি এমন সমস্যা আসলে কতটা মারাত্মক, শনাক্ত করেছে এআই।
সুতরাং বিষয়টা যে হেলাফেলা করার মতো নয় তা বোঝাই যায়। অদ্ভুতভাবে চিকিৎসকরাও বিষয়টা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখননি। অর্থাৎ তাঁরাও মনে করছেন এআই-এর ফলে রোগীরা অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। রোগ সম্পর্কে বিস্তারে জানা ভুল কিছু না করা এই ধরনের অভ্যাস বেড়েছে। তাতে আখেরে লাভ সেই রোগীর।
একথা সত্যি চিকিৎসকদের বিকল্প কখনও সম্ভব নয়। হাতে কলমে চিকিৎসা তাঁরাই করবেন। কিন্তু অনেকসময় সঠিক পরামর্শ পেতে দেরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বাড়ি বসে বিনামূল্যে এআই-র থেকে পরামর্শ পেলে ক্ষতি কি! তবে হ্যাঁ, ব্যবহার ভুল হলে পরিণাম অন্যরকম হতেই পারে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) নিজে থেকে কিছু করতে পারবে না।
ভুল প্রশ্ন করলে ভুল উত্তরই দেবে সে। শারীরিক সমস্যার ব্যাখ্যায় যদি এতটুকু ভুল হয় তাহলে পরামর্শও অন্যরকম হতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্ধের মতো ভরসা করলে বিপদ হতেই পারে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই কিছু চিকিৎসক জানিয়েছেন, অনেক রোগী রোগের ব্যাখ্যা ঠিকমতো দিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কথা বলে চিকিৎসককেই বুঝে নিতে হয় কোথায় সমস্যা। সেইমতো হয় চিকিৎসা। কৃত্রিম মেধা এমনটা করতে পারবে না।
তাই সাবধানে বুঝেশুনে তার ব্যবহার করাই একান্ত প্রয়োজন, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

