বার্তাবাংলা ডেস্ক :: তিন দিন ধরে রাজধানীর শিশু হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিল ৬ বছরের মেয়েটি। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও সুস্থ হয়ে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসবেÑ এমনটাই ভেবেছিলেন মা নাজনীন আক্তার। কিন্তু মায়ের সেই ভাবনা সত্যি হয়নি। সোমবার বিকালে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বুকের মানিক চন্দ্রমুখী। মা নাজনীন আক্তার মেনে নিতে পারেননি এ খবর। তাই নাড়িছেঁড়া ধনের মৃত্যুর খবর শুনে বাসার পাঁচতলার ছাদ থেকে লাফ দেন তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় মা নাজনীন আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তার স্বামী রকিবুল ইসলাম ওরফে মুকুলও একজন সাংবাদিক। তিনি বেসরকারি টিভি চ্যানেল গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নাজনীন আক্তার মাথায় আঘাত পেয়েছেন। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানেও বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জনকণ্ঠের প্রতিবেদক নিয়াজ আহমেদ লাবু জানান, নাজনীনের একমাত্র সন্তান চন্দ্রমুখী অ্যাজমা ও লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত ছিল। গত তিন দিন চন্দ্রমুখী শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। এতদিন লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। গতকাল দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসকরা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলেন। এরপরই ছোট্ট মেয়েটি না ফেরার দেশে চলে যায়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা চন্দ্রমুখীর মৃত্যুর খবর মা নাজনীনকে জানাননি। তারা জানতেন, নাজনীন এত বড় শোক সইতে পারবেন না। বাস্তবে স্বজনদের ধারণাই সঠিক হয়। সন্ধ্যার দিকে আত্মীয়দের কাছে তিনি একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনতে পান। এর পরপরই তিনি দৌড়ে ৫ তলার বাসার ছাদে গিয়ে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
সুস্থ আছেন নাজনীন
গভীর রাতে জানা গেছে, নাজনীন আক্তারের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তিনি ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা তিন ঘণ্টা ধরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাকিম শাহীন সাংবাদিকদের জানান, নাজনীনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফ্র্যাকচার আছে, যা সিটি স্ক্যানের পর জানা যাবে। এছাড়া তার শরীরের কয়েকটি স্থানে ক্ষত ছিল, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছে।
এদিকে, নাজনীনের মাথায় আঘাতের কথা বলা হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের আগে তার মাথায় সিটি স্ক্যান করে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাননি।
তিনি আরো জানান, ওপর থেকে পড়ে যাওয়ায় নাজনীন পিঠ, কোমর ও বুকের কয়েকটি হাড়ে আঘাত পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি সুস্থ আছেন।
এদিকে, মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে নাজনীনের শিশুকন্যা চন্দ্রমুখীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জিটিভির প্রতিবেদক সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রাত সাড়ে ৮টায় কল্যাণপুর জামে মসজিদে চন্দ্রমুখীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য যুক্ত করুন
