দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের কথা জানায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নিযুক্ত ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে তাঁর এই নিয়োগ দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিয়োগের শর্ত ও মেয়াদ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোস্তাকুর রহমানকে আগামী চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগ কার্যকর হওয়ার আগে তাঁকে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তাঁর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এবং তা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রদান করা হবে।

কে এই মোস্তাকুর রহমান?
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দেশের আর্থিক ও করপোরেট জগতে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক দিকনির্দেশনায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাজীবন: তিনি ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাগত স্বীকৃতি: তিনি দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICMAB)-এর একজন ফেলো (FCMA)।
দক্ষতা: করপোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃত।
অন্যান্য দায়িত্ব: তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (CSE) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আহসান এইচ মনসুরের বিদায়
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ড. আহসান এইচ মনসুরকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিল। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
নতুন গভর্নর এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকট এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্ব আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনবে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে নতুন গভর্নরের ভূমিকা
মোস্তাকুর রহমানের ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স’ বা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অভিজ্ঞতা খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

