বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: মানুষের জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময়। বৈচিত্র্যময় তার আচার-আচরণ, তার চলার ধরন। এই বিচিত্রতার অনেকটাই কৃত্রিম আবার অনেকটা জন্মগত। শারীরিক গঠনেও রয়েছে ভিন্নতা। রয়েছে নানা অসুখ-বিসুখ, বিকলাঙ্গতা। শারীরিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে অনেকে আমৃত্যু ধুঁকে অনেকেই আবার দিব্যি সেটাকে কাজে লাগিয়ে জীবন ধারণ করে। তেমন একজন ছিলেন ইলা হারপার। শারীরিক দিক থেকে পুরোপুরি ভিন্নভাবে বেড়ে ওঠা এক নারী।
‘ক্যামেল গার্ল’ হিসেবে পরিচিত এই নারীর জন্ম ১৮৭৩-এ তেন্নিসিতে। ইলা হারপার এমন এক অর্থোপেডিক কন্ডিশনে জন্ম নিয়েছিলেন যার ফলে তার দুই হাঁটু ছিল পেছনের দিকে বাঁকানো। সোজা হয়ে হাঁটতে পারতেন না তিনি। দুই হাত, পেছনের দিকে বাঁকানো দুই পা- এই চার অঙ্গে ভর দিয়ে মাথা উঁচু করে তিনি চলাচল করতেন। যা তাকে উট সদৃশ লাগত। এজন্যই মূলত তিনি সে সময়ে ক্যামেল গার্ল বলেই পরিচিত ছিলেন। এখন পর্যন্ত তার নাম উল্লেখযোগ্য তার এই অস্বাভাবিক শারীরিক গঠনের কারণে। বর্তমানে শারীরিক এই বিকলাঙ্গতাকে মেডিকেলের ভাষায় ‘কনজেনিটাল জেনু রিকারভাটাম’ বলা হয়। W. H. Harriss Nickel Plate Circus ১৮৮৬ তে তিনি রীতিমতো স্টার খ্যাতি লাভ করেন তার এই হাঁটার ধরন দিয়ে। বিভিন্ন সার্কাসে তিনি তার পেছন বাঁকানো পা প্রদর্শন করেই একটা সময়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একজন মানুষ হিসেবে তারও ইচ্ছা ছিল আর দশজনের মতো জীবনকে সাজানো, পড়াশুনা করার। সার্কাস থেকে সরে এসে তিনি বেশ কিছুদিন স্কুলেও গিয়েছেন। । তার বায়োগ্রাফিক্যাল পিচ কার্ডের (ব্যক্তিগত তথ্য যেখানে লেখা হয়) পেছনে লেখা ছিল-
‘আমাকে ক্যামেল গার্ল বলা হয় কারণ আমার হাঁটু ছিল পেছনের দিকে বাঁকানো- এমনটা নিয়েই আমি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি যেমনটা আমার ছবিতে দেখছেন। আমি গত চার বছর বিভিন্ন শোতে বেশ ভালভাবেই পারফর্ম করেছি কিন্তু আমি এই সার্কাসকে ছেড়ে স্কুলে যেতে চাই। অন্য পেশায় যেতে চাই’।
পরবর্তীতে এমন দুর্লভ শারীরিক গঠনের ইলা হারপারের কপালে কি জুটেছিল। সে কি পেরেছিল স্বাভাবিক সুস্থ জীবনে ফিরতে। সে ব্যাপারে খুব একটা বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি কোথাও। তবে সে সময়ে চারদিকে বেশ আলোচিত ছিল ক্যামেল গার্ল খ্যাত এই ইলা হারপার।
মন্তব্য যুক্ত করুন
