সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশর মধ্যে একটি। এক সময় ব্রিটিশ উপনিবেশের বাণিজ্যিক স্থান হিসেবে ব্যবহার হতো দেশটি। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার কারণে দেশটি এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ‘হাব’ এ পরিণত হয়েছে। এ জন্য দেশটিকে এশীয় অর্থনীতির ‘বাঘ’ বলা হয়।

আধুনিক স্থাপত্য শৈলী আর অপরুপ সৌন্দর্যে ভরপুর ছোট্ট এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি। সিঙ্গাপুরের পোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক বন্দর। দেশটির এয়ারপোর্ট বিশ্বের সেরা কয়েকটি এয়ারপোর্টের মধ্যে অন্যতম। এতটুকুন একটা শহর ঘুরে দেখতে সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যাবে। তবে বাস, প্রাইভেট কার কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা জ্যামের মতো বিরক্তকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।
প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে দেশটিতে ঘুরতে যান। দেশটি ঘুরতে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের ভিসা আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
সিঙ্গাপুরের ভিসা পেতে করণীয়
ঢাকায় সিঙ্গাপুরের কনস্যুলেট বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য প্রবেশ ভিসার আবেদন করতে হবে। তবে বাংলাদেশি কূটনৈতিক এবং অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের সিঙ্গাপুরে যেতে ভিসার প্রয়োজন হয় না।
এক্ষেত্রে ঢাকা কনস্যুলেট থেকে দেওয়া সিঙ্গাপুর ভিসাটি সরাসরি অভিবাসন পাস নয়। এটি সিঙ্গাপুরে ভ্রমণের জন্য প্রাক-প্রবেশের অনুমতি মাত্র। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্ট অথরিটি কর্মকর্তারা সিঙ্গাপুরে প্রবেশের আগে ইমিগ্রেশন পাস প্রদানের বিষয়টি নির্ধারণ করে থাকেন।
সম্পূর্ণ ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ঢাকায় অবস্থিত কনস্যুলেটের অনুমোদিত ভিসা এজেন্টের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনটি জমা দিতে হবে। অনলাইনে জমা দেয়া পুরো ভিসা প্রসেসিং-এর খরচ ৩০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। এখানে এজেন্টের ফি অন্তর্ভুক্ত নয়।
ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- সিঙ্গাপুরে আগমনের তারিখ থেকে কমপক্ষে ছয় মাসের বৈধতাসহ বৈধ পাসপোর্ট
- যথাযথভাবে পূরণ করা আবেদনপত্র
- সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কারো মাধ্যমে ইস্যু করা পরিচিতিপত্র বা এলওআই
- সাধারণের ক্ষেত্রে পত্রটি অবশ্যই কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক বা সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে।
- ব্যবসায়ীক ভ্রমণকারীদের জন্য সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পরিচিতি হিসেবে কাজ করতে পারে
- এক কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি যা সর্বোচ্চ তিন মাস পুরোনো হতে পারবে। ছবির পেছনে সাদা পটভূমি, ধর্মীয় বা জাতিগত রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য কিন্তু মুখের বৈশিষ্ট্য গোপন করে এমন কিছু ব্যবহার করা যাবে না। মুখের ছবি চিবুক থেকে মাথা পর্যন্ত ২৫ মিমি দৈর্ঘ্য এবং ৩৫ মিমি প্রস্থ হতে হবে।
- আবেদনকারীর বায়োডাটার একটি ফটোকপি

