মৃত্যু ছাড়া সর্বরোগের মহা ঔষধ কালিজিরা – এটা আমরা সবাই জানি। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের মতো ভয়ানক সব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কালিজিরা সাহায্য করে। তাছাড়া এটা যে একটি অতি স্বাস্থ্যকর খাবার সেটিও কারো অজানা নয়। শুধু কালিজিরাতেই রয়েছে ১০০টির বেশি খাদ্যগুণ। অসুখের ওষুধ বলুন অথবা স্বাস্থ্য রক্ষার পথ্য, কোনোটাতেই কালিজিরার জুড়ি নেই। তবে এগুলো ছাড়াও কালিজিরার রয়েছে আরো বেশ কিছু ব্যবহার। আসুন, জেনে নিন কালিজিরার পাঁচটি অন্যরকম ব্যবহার।
পোকামাকড়ের উপদ্রবে :
কালিজিরায় রয়েছে এমন উপাদান, যা পোকামাকড়রা সহ্য করতে পারে না। বিশেষ করে পিঁপড়া তাড়াতে কালিজিরা অসাধারণ। সুতি পাতলা কাপড়ে কালিজিরার ছোট ছোট পোটলা বানিয়ে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিন। পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হবে। বিশেষ করে আলমারি বা ওয়ারড্রোবে কাপড়ের ফাঁকে ফাঁকে কালিজিরার পোটলা রেখে দিলে পোকামাকড় ও ফাঙ্গাসের হাত থেকে কাপড় রক্ষা পাবে।
সর্দি ও ঠাণ্ডাজনিত মাথাব্যথায় :
ঠাণ্ডা লেগে সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যায় অনেকেরই। এ কারণে অনেকে শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথাতেও ভোগেন। কালিজিরা এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে খুব সহজেই। না, খেতে হবে না! সামান্য কালিজিরা হাতের তালুতে নিয়ে আঙুল দিয়ে ডলে নিন। এরপর পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে ছোট পুটলি তৈরি করুন। এরপর এক নাক বন্ধ করে অন্য নাকে টানতে থাকুন। বন্ধ নাক খুলে যাবে। একই কাজ করুন মাথাব্যথাতেও। সাইনোসাইটিসের ব্যথাও এ কাজ করলে কমে যাবে।
দাঁত ব্যথায় :
দাঁতে ছিদ্র হলে বা মাড়ির কোনো সমস্যা হলে দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এই ব্যথা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন কালিজিরা। কালিজিরার তেল দিতে পারেন দাঁতের ছিদ্রতে বা মাড়িতে। অথবা সামান্য কিছু কালিজিরা থেঁতো করে নিয়ে দাঁতের ছিদ্রতে দিন বা মাড়িতে প্রলেপ দিন। দাঁতের ব্যথা কিছুক্ষণের মধ্যেই কমে যাবে।
শিশুদের ঠাণ্ডা লাগায় :
ছোট শিশুদের চট করে ঠান্ডা লেগে যায়। ঠান্ডার কারণে বুকে কফ জমে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট শিশুদের খুব ভোগায়। শিশুদের ঠান্ডার সমস্যায় কালিজিরা ও সমপরিমাণ সরিষা মিহি করে বেটে নিয়ে শিশুর মাথার তালু ও বুকে প্রলেপ দিন। দ্রুত সমস্যা দূর হবে।
গ্যাসের সমস্যা :
গ্যাসের কারণে বুকে জ্বালাপোড়া, পেটে ব্যথা বা পেট ফুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ কালিজিরা ভালো করে ফুটিয়ে নিন। পানি ছেঁকে নিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় পান করুন। আরাম পাবেন।
গায়ের ব্যথা :
গায়ের ব্যথায় খুব ভালো কাজে দেয় কালিজিরার তেল। তেল হালকা গরম করে নিন। ব্যথার জায়গায় আলতো হাতে লাগান। মালিশ করবেন না। ব্যথা বেশি হলে দিনে অন্তত দু বার এভাবে কালিজিরার তেল ব্যবহার করুন।
কালিজিরা তে প্রায় শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে এক চিমটি কালিজিরা এক গ্লাস পানির সাথে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভেষজবিদরা কালিজিরা কে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে অভিহিত করেছেন হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন কালিজিরা সেবনে উপকার পাওয়া যায়। কালিজিরা হরমোন সমৃদ্ধ হওয়ায় পুরুষত্বহীনতায় বা নারী-পুরুষের যৌন অক্ষমতায় নিয়মিত কালিজিরা সেবনে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়। সর্দি কাশি সারাতে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কালিজিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসূতি মাতাদের দুগ্ধ বাড়াতে ও নারী দেহের মাসিক নিয়মিতকরণে এবং মাসিকের ব্যথা নিবারণে কালিজিরার ভূমিকা রয়েছে।
