‘আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ মেকস এ ম্যান হেলদি ওয়েলদি অ্যান্ড ওয়াইজ’, ছোটবেলা থেকে এ কথাটা আমরা প্রায়ই শুনে আসছি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের জন্য এ কথাটা কতটুকু সত্য? এ প্রজন্মের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই রাত জাগার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু সেটা কতটা স্বাস্থ্যকর কর্মক্ষেত্রে অথবা প্রাত্যহিক জীবনে তার প্রভাব কতটা পড়ছে? ছাত্রজীবনে হয়তো রাত জেগে পড়া হয় অথবা অন্য কোনো কাজ করা হয় কিন্তু কর্মক্ষেত্রে গেলে সেটা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। তখন অভ্যাসের পরিবর্তন করতেই হয়। অভ্যাস মানুষের দাস—এমনটাই বলা হয়ে থাকে। যেকোনো মানুষ চাইলেই তার অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে। ঠিক তেমনিভাবে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও যে কেউ চাইলেই পরিবর্তন করতে পারে। এর জন্য তাকে প্রাত্যহিক জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি ছোটবেলা থেকেই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা যায়।
একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবেই ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বা অন্য যেকোনো কাজের জন্য সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে সারা দিন কাজের অনেক সময় পাওয়া যায়। মন মেজাজ ফুরফুরে ও সতেজ থাকে। অভ্যাসটা পরিবর্তন করা অনেক বেশি কঠিন কাজ না—এমনটাই মনে করেন বারডেম হাসপাতালের অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকে ধীরে ধীরে অবশ্যই সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করানো উচিত। তাহলে পরবর্তী সময়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন রাত ১২টায় ঘুমোতে যান। তাঁর অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য ঘুমের সময়টা একটু একটু করে এগিয়ে নিতে পারেন। ১২টার পরিবর্তে সাড়ে ১১টা। এরপর ১১টার ভেতর ঘুমোতে গেলে সকাল সাতটা পর্যন্ত যদি তিনি ঘুমান, তাহলেই তাঁর ঘুমটা পরিপূর্ণ হচ্ছে। সব ধরনের কাজ খুব সকাল সকাল শুরু করতে পারবেন।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পরিবর্তনটা খুব কঠিন কিছু না। কিছু নিয়ম অবলম্বন করলেই সকালে ঘুম থেকে ওঠা যায়। সফল ব্যক্তিদের জীবন সম্বন্ধে জানলে দেখা যায় তাঁরা প্রত্যেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে যেতেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় রাত জেগে তারা পড়াশোনা করে অথবা অন্য কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখে ছাত্রজীবনে অনেকেই এটা করে, তবে ধীরে ধীরে এই অভ্যাসের পরিবর্তন করা উচিত। সেটা শরীরের জন্যও ভালো আবার ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রের জন্যও অনেক কাজে লাগবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য কিছু নিয়ম অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন—
* ৮ ঘণ্টা হিসাব করে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কেউ যদি ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতে চায়, তাকে অবশ্যই ১০টার ভেতর ঘুমিয়ে পড়া উচিত।
* ঘুমাতে যাওয়ার আগে টেলিভিশন বা ল্যাপটপের সব কাজ আগেই সেরে ফেলা উচিত।
* ঘুমানোর আগে অল্প কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি অথবা একটু ব্যায়াম করে নেওয়া উচিত।
* দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করা উচিত। আর যদি খুব ক্লান্ত লাগে তাহলে অল্পক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
* পরদিন কী কী কাজ করা হবে, সেটা ঘুমাতে যাওয়ার অনেক আগেই ঠিক করা উচিত।
* সন্ধ্যার পর চা অথবা কফি ইত্যাদি পান করা উচিত নয় এবং রাতের খাবারটা যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে নেওয়া উচিত।
সবশেষে পুরোটা দিন কাজে লাগাতে এবং সুস্থ থাকতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত এবং এর জন্য বিভিন্ন নিয়ম অবলম্বন করা উচিত।
Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/hrqwaeru/public_html/wp-content/themes/smart-mag/partials/single/featured.php on line 78
মন্তব্য যুক্ত করুন
