Close Menu
    Facebook X (Twitter) Instagram
    সর্বশেষ আপডেট »
    • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে সোনালী ট্রফির দোড়গোড়ায় মেসি
    • মৃত্যুর দুই দশক পরও ঢাকাই সিনেমার মুকুটহীন হাসির রাজা দিলদার
    • মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ : আদিম গুহাবাস থেকে আধুনিক মহাকাশ যুগের অবিশ্বাস্য যাত্রা
    • বাংলাদেশের উপজাতীয় সংস্কৃতি : বৈচিত্র্য, প্রথা ও জীবনযাত্রার এক অনন্য কোলাজ
    • জন্মহার বাড়াতে বেতনসহ বাড়তি ছুটি দেবে ফ্রান্স 
    • মদ্যপ বরের গলায় মালা দিতে অস্বীকৃতি: বিয়ে ভেঙে সম্মাননা পেলেন সাহসী মুসকান
    • মনের মানুষ ও অচিন পাখির সন্ধানে : লালন শাহের জীবন ও সর্বজনীন দর্শন
    • বাংলার নকশি কাঁথা : সুঁই-সুতায় আঁকা নারীর মনস্তত্ত্ব
    Facebook X (Twitter) LinkedIn Pinterest RSS
    Leading Bangla News Portal | BartaBangla.com
    • প্রচ্ছদ
    • বাংলাদেশ
    • বিশ্বজুড়ে
    • অর্থনীতি
    • খেলা
    • জীবনধারা
    • টিপ্স-ট্রিক্স
    • বিনোদন
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
    • স্বাস্থ্য
    • প্রবাসকথা
    • অন্যান্য
      • প্রযুক্তি
      • বিদেশে উচ্চশিক্ষা
      • চাকরির খবর
      • ভিসাতথ্য
      • মজার খবর
      • ধর্ম
      • রেসিপি
    Leading Bangla News Portal | BartaBangla.com
    Home » মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন: বন্দিত্ব ও করুণ মৃত্যুর ইতিহাস
    ইতিহাস-ঐতিহ্য June 21, 2026

    মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন: বন্দিত্ব ও করুণ মৃত্যুর ইতিহাস

    ইতিহাস-ঐতিহ্য June 21, 20268 Mins Read
    Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    Follow Us
    Facebook Google News
    নবাব সিরাজউদ্দৌলা
    নবাব সিরাজউদ্দৌলা
    বার্তাবাংলা প্রতিবেদক »

    নবাব শাহ কুলী খান মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজউদ্দৌলা – বাঙালির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন বাংলা, বিহার ও ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব। ১৭৫৬ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত মাত্র এক বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি মসনদে আসীন ছিলেন। তবে এই অল্প সময়েই তাঁর জীবনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা এবং পরবর্তীতে তাঁর পতন অবসান ঘটায় বাংলার স্বাধীনতার। সূচনা করে ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘ দুইশত বছরের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের। bartabangla.com-এর পাঠকদের জন্য ইতিহাসের সেই গৌরবোজ্জ্বল ও ট্র্যাজিক অধ্যায় নিয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

    বিষয়সূচি
    1. জন্ম, বংশপরিচয় ও শৈশবকাল
    2. বিবাহ ও পারিবারিক জীবন
    3. যৌবরাজ্যাভিষেক ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
    4. সিংহাসনে আরোহণ ও ইংরেজদের দম্ভ
    5. কলকাতা আক্রমণ ও আলিনগরের সন্ধি
    6. কুচক্রীদের বিচার ও মীর জাফরের গভীর ষড়যন্ত্র
    7. ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ এবং বাংলার পতন
    8. বন্দিত্ব, নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং নবাব পরিবারের করুণ পরিণতি

    জন্ম, বংশপরিচয় ও শৈশবকাল

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্ম সাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী, তিনি ১৭৩২ বা ১৭৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সুবাহ বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের দৌহিত্র বা নাতি।

    নবাব আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। তাঁর ছিল তিন কন্যা –ঘসেটি বেগম, শাহ বেগম এবং আমেনা বেগম। আলীবর্দী খাঁ তাঁর বড় ভাই হাজি আহমদের তিন পুত্রের সাথে এই তিন কন্যার বিয়ে দেন। এর মধ্যে ছোট মেয়ে আমেনা বেগমের বিয়ে হয় জয়েনউদ্দিন আহম্মদের সাথে। আমেনা বেগমের গর্ভেই জন্ম নেন মির্জা মোহাম্মদ, যিনি ইতিহাসে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নামে পরিচিতি পান।

    সিরাজের জন্মের ঠিক পরপরই আলীবর্দী খান পাটনার শাসনভার লাভ করেন। এই কারণে আলীবর্দী খাঁ সিরাজের জন্মকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতেন। পুত্রসন্তান না থাকায় সিরাজ ছিলেন তাঁর নানার চোখের মণি। মাতামহের অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসায় মুর্শিদাবাদের রাজপ্রাসাদে বড় হতে থাকেন ভবিষ্যৎ এই নবাব।

    বিবাহ ও পারিবারিক জীবন

    ১৭৪৪ সালের দিকে রাজনৈতিক ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জেব-উন-নিসার সাথে সিরাজউদ্দৌলার প্রথম বিবাহ সম্পন্ন হয়। এটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার বিয়ে ছিল এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান ছিল না। পরবর্তীতে পলাশীর যুদ্ধের পর সিরাজের করুণ মৃত্যুর পর জেব-উন-নিসা অন্যত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে সিরাজের জীবনে তাঁর আরেক স্ত্রী লুৎফুন্নেসা (লুতফা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নবাবের ছায়াসঙ্গী ছিলেন।

    যৌবরাজ্যাভিষেক ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    বালক বয়স থেকেই সিরাজউদ্দৌলা সামরিক ও প্রশাসনিক শিক্ষা পেতে শুরু করেন। ১৭৪৬ সালে আলিবর্দী খান যখন মারাঠাদের (বর্গী) বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন, তখন কিশোর সিরাজও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। আলিবর্দী খাঁ সিরাজকে অল্প বয়সেই পাটনার প্রতীকী শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন এবং তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্কতার কারণে রাজা জানকীরামকে রাজপ্রতিনিধি বা নায়েব করা হয়।

    নবাব সিরাজকে ভুলতে পারেননি স্ত্রী লুৎফা
    নবাব সিরাজকে ভুলতে পারেননি স্ত্রী লুৎফা

    তবে এই ব্যবস্থা কিশোর সিরাজকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তিনি একদিন গোপনে তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর ও স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে পাটনায় চলে যান এবং জানকীরামকে শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নবাবের সরাসরি অনুমতি না থাকায় জানকীরাম দুর্গের দ্বার বন্ধ করে আলিবর্দী খানের কাছে দূত পাঠান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিরাজ দুর্গ আক্রমণ করেন এবং উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে বৃদ্ধ আলিবর্দী খাঁ দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সেই দিনই তিনি দুর্গের দরবারে স্নেহভাজন দৌহিত্র সিরাজকে পাশে বসিয়ে ঘোষণা করেন:

    “আমার পরে সিরাজ-উদ-দৌলাই বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করবে।”

    ইতিহাসে এই ঘটনাটিকে সিরাজউদ্দৌলার যৌবরাজ্যাভিষেক বলা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র সতেরো বছর। তবে এই আগাম ঘোষণা আলিবর্দী খানের বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম এবং তাঁর স্বামী নোয়াজেশ মোহাম্মদ সহজে মেনে নিতে পারেননি। পরিবারে ভেতরেই শুরু হয় তীব্র বিরোধের বীজ।

    সিংহাসনে আরোহণ ও ইংরেজদের দম্ভ

    ১৭৪০ থেকে ১৭৪৪ সাল পর্যন্ত আলীবর্দী খানের জামাতা নওয়াজিশ মুহাম্মদ খান ঢাকার নায়েব নাজিম ছিলেন। তিনি মুর্শিদাবাদে অবস্থান করে তাঁর সহকারী হোসেন কুলী খান এবং হোসাইন কুলীর সহকারী হোসেন উদ্দিন খানের মাধ্যমে ঢাকা শাসন করতেন। তবে এই সময় থেকেই পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার কামড়াকামড়ি শুরু হয়।

    পরবর্তীতে হোসেন কুলী খান ও তাঁর ভাই ঢাকায় আততায়ীর হাতে নিহত হন। নোয়াজেশ নিঃসন্তান থাকায় তিনি সিরাজের ছোট ভাই মির্জা মেহেদীকে পোষ্যপুত্র গ্রহণ করেছিলেন, যিনি নোয়াজেশের জীবদ্দশাতেই মারা যান। নোয়াজেশের দেওয়ান রাজবল্লভ ঘসেটি বেগমের নাম ভাঙিয়ে স্বয়ং বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার স্বপ্ন দেখছিলেন।

    এমন এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল আলিবর্দী খাঁ মৃত্যুবরণ করেন। চারদিকে চক্রান্তের জাল ভেদ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে শাহ কুলি খান মির্জা মোহাম্মদ হায়বৎ জং বাহাদুর (সিরাজউদ্দৌলা) বাংলার মসনদে বসেন।

    রবার্ট ক্লাইভ
    রবার্ট ক্লাইভ

    সিংহাসনে বসার পর পরই নবাব দেখতে পান কলকাতায় ইংরেজদের প্রতাপ ও ঔদ্ধত্য দিন দিন বাড়ছে। তারা নবাবের অনুমতি ছাড়াই কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের সংস্কার শুরু করে। রাজবল্লভ নবাবের হাত থেকে বাঁচতে তাঁর পুত্র কৃষ্ণবল্লভকে ঢাকার রাজকোষের বিপুল অর্থসহ কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেন।

    নবাব তখন কাসিমবাজারের কুঠিয়াল ওয়াটসনকে দুর্গপ্রাচীর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু ইংরেজরা সেই আদেশ অমান্য করে। সিরাজ বুঝতে পারেন, গৃহবিবাদের সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা এই ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। তিনি প্রথমে মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার করে ঘসেটি বেগমকে নজরবন্দি করেন এবং মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসেন। এরপর ১৭৫৬ সালের মে মাসে নবাবের সেনাবাহিনী কাসিমবাজার দুর্গ অবরোধ করে ওয়াটসনকে শর্ত মানতে বাধ্য করে।

    কলকাতা আক্রমণ ও আলিনগরের সন্ধি

    ১৭৫৬ সালের ১৮ জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলা সশরীরে কলকাতা আক্রমণ করেন। ২০ জুন তুমুল যুদ্ধের পর ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নবাবের নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি দুর্গে প্রবেশ করে উমিচাঁদ ও কৃষ্ণবল্লভকে দরবারে হাজির করার নির্দেশ দেন। কলকাতার শাসনভার সেনাপতি মানিকচাঁদের হাতে অর্পণ করে ১২ জুলাই নবাব পুনরায় রাজধানীতে ফিরে আসেন।

    এদিকে, দিল্লির বাদশা কর্তৃক পূর্ণিয়ার নবাব শওকত জঙ্গকে বাংলার সুবেদারির ভুয়া সনদ পাঠানো হলে শওকত নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ইংরেজরা গোপনে শওকত জঙ্গের সাথে হাত মেলায়। অন্যদিকে মাদ্রাজ থেকে রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসন বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে কলকাতা পুনরুদ্ধারে রওনা হন। নবাব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শওকত জঙ্গকে দমনের জন্য অগ্রসর হন। নবাবগঞ্জের যুদ্ধে শওকত জঙ্গ নিহত হলে পূর্ণিয়ার বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

    তবে এই সুযোগে ক্লাইভ ও ওয়াটসন বিনাযুদ্ধে মানিকচাঁদকে পরাজিত করে কলকাতা দুর্গ পুনর্দখল করে নেয়। চারদিকের মন্ত্রীদের কুচক্র ও ষড়যন্ত্রে শঙ্কিত হয়ে নবাব ইংরেজদের সাথে সমঝোতার পথ বেছে নেন। ফলশ্রুতিতে, ১৭৫৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইংরেজদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিহাসে ‘আলিনগরের সন্ধি’ নামে পরিচিত।

    মীর জাফরের বাড়ি 'নমক হারাম দেওড়ি'র প্রবেশপথ
    মীর জাফরের বাড়ি ‘নমক হারাম দেওড়ি’র প্রবেশপথ

    কুচক্রীদের বিচার ও মীর জাফরের গভীর ষড়যন্ত্র

    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা দুর্নীতিবাজ ও বিশ্বাসঘাতক কর্মকর্তাদের বিচার শুরু করেন। সেনাপতি মানিকচাঁদকে কারাবন্দি করা হয়। এতে মীরজাফর, রাজবল্লভ ও জগৎশেঠ ভীষণ ভীত হয়ে পড়েন। তারা নিজেদের স্বার্থ ও চামড়া বাঁচাতে জগৎশেঠের ভবনে গোপন বৈঠকে মিলিত হন এবং ইংরেজদের সহায়তায় নবাবকে হঠানোর চক্রান্ত চূড়ান্ত করেন।

    ইয়ার লতিফ গোপনে ওয়াটসনের কাছে গিয়ে মিথ্যা তথ্য দেন যে নবাব নাকি শীঘ্রই ইংরেজদের আক্রমণ করবেন। ক্লাইভ নবাবকে একটি চতুর চিঠি লেখেন যে, ইংরেজরা সেনা তুলে নিলেও নবাব কেন পলাশীতে ছাউনি গেড়েছেন? সরলবিশ্বাসী সিরাজউদ্দৌলা মীরজাফরের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে পলাশী থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এই সুযোগে ১৭ মে কলকাতার ইংরেজ দরবারে মীরজাফরকে নবাব বানানোর গোপন চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।

    ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ এবং বাংলার পতন

    ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। পলাশীর আম্রকাননে মুখোমুখি হয় নবাবের ৫০ হাজার সৈন্য এবং ইংরেজদের মাত্র ৩ হাজার সৈন্যের বাহিনী। সকাল আটটায় নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর মদন এবং মোহনলাল ইংরেজ বাহিনীর ওপর অতর্কিত ও তীব্র আক্রমণ চালান। তাঁদের বীরত্বে টিকতে না পেরে ক্লাইভ তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে আমবাগানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

    পলাশীর যুদ্ধ
    পলাশীর যুদ্ধ

    যুদ্ধের এই পর্যায়ে মীরজাফর, ইয়ার লতিফ এবং রায়দুর্লভের বিশাল সৈন্যদল পুতুলের মতো নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে রইল। দুপুরের দিকে হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলে নবাবের খোলা আকাশের নিচে থাকা গোলাবারুদ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে ইংরেজরা তাদের গোলাবারুদ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। বৃষ্টি থামার পর মীর মদন পুনরায় বীরত্বের সাথে লড়াই শুরু করলেও হঠাৎ একটি কামানের গোলার আঘাতে তিনি শহীদ হন।

    মীর মদনের মৃত্যুর পর নবাব ভেঙে পড়েন। তিনি মীরজাফরকে ডেকে তাঁর কোরআন ছুঁয়ে নেওয়া শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মীরজাফর নবাবকে আশ্বস্ত করার ভান করে যুদ্ধ স্থগিতের পরামর্শ দেয় এবং মোহনলালকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার নির্দেশ পাঠায়। মোহনলাল এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও মীরজাফরের আদেশে নবাবের সৈন্যরা যখন পিছু হটতে শুরু করে, ঠিক তখনই ক্লাইভ পেছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। মুহূর্তের মধ্যে নবাবের সুসংগঠিত বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বিকেল পাঁচটায় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

    বন্দিত্ব, নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং নবাব পরিবারের করুণ পরিণতি

    পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব রাজধানী রক্ষার উদ্দেশ্যে মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন, কিন্তু কেউ তাঁকে সাহায্য করেনি। অবশেষে স্ত্রী লুৎফুন্নেসা ও কন্যা উম্মে জহুরাকে নিয়ে তিনি নৌকাযোগে উত্তর দিকে যাত্রা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল পাটনায় গিয়ে ফরাসি বাহিনীর সহায়তায় পুনরায় বাংলা উদ্ধার করা।

    কিন্তু পথিমধ্যে নাজিমপুরের মোহনায় পানি কমে যাওয়ায় তাঁর নৌকা আটকে যায়। খাবার সংগ্রহের জন্য তিনি যখন তীরে নামেন, তখন এক কানকাটা ফকির (যিনি পূর্বে নবাবের কাছে শাস্তি পেয়েছিলেন) তাঁকে চিনে ফেলে মীরজাফরের সৈন্যদের খবর দেয়। ১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই নবাবকে বন্দি করে মুর্শিদাবাদে আনা হয়।

    বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা
    বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা

    পরের দিন, ৪ জুলাই মীরজাফরের পুত্র মিরনের আদেশে মোহাম্মদী বেগ নামক এক নির্মম ঘাতক বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে তরবারির আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে পুরো মুর্শিদাবাদ শহর ঘোরানো হয় এবং পরে খোশবাগে আলিবর্দী খানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

    নবাবের মৃত্যুর পর শুরু হয় তাঁর পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন। সিরাজের মা আমেনা বেগম, খালা ঘসেটি বেগম, স্ত্রী লুৎফুন্নেসা এবং শিশুকন্যাকে ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে বন্দি করে রাখা হয়। পরবর্তীতে মিরনের নিষ্ঠুর আদেশে ঘসেটি বেগম ও আমেনা বেগমকে ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। লুৎফুন্নেসা এবং তাঁর কন্যা পরবর্তীতে মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন এবং কোম্পানি সরকারের সামান্য বৃত্তির ওপর নির্ভর করে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে ১৭৯০ সালে লুৎফুন্নেসা মৃত্যুবরণ করেন।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার এই ট্র্যাজিক পতন কেবল একটি রাজবংশের পতন ছিল না, এটি ছিল সমগ্র উপমহাদেশের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার এক অন্ধকার সূচনা। তাঁর দেশপ্রেম এবং মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বেদনার রঙে আঁকা রয়েছে।

    Advertisement for African All Media List
    নবাব সিরাজউদ্দৌলা
    Follow on Google News Follow on Facebook
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link
    আগের কন্টেন্ট গ্রামের রান্না কেন এতো ভালো লাগে? এই স্বাদের রহস্য কী
    পরের কন্টেন্ট বাংলার নকশি কাঁথা : সুঁই-সুতায় আঁকা নারীর মনস্তত্ত্ব

    এ সম্পর্কিত আরও কন্টেন্ট »

    ইতিহাস-ঐতিহ্য

    মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ : আদিম গুহাবাস থেকে আধুনিক মহাকাশ যুগের অবিশ্বাস্য যাত্রা

    ইতিহাস-ঐতিহ্য

    বাংলাদেশের উপজাতীয় সংস্কৃতি : বৈচিত্র্য, প্রথা ও জীবনযাত্রার এক অনন্য কোলাজ

    ইতিহাস-ঐতিহ্য

    বাংলার নকশি কাঁথা : সুঁই-সুতায় আঁকা নারীর মনস্তত্ত্ব

    মন্তব্য যুক্ত করুন
    মন্তব্য করতে সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ করুন! উত্তরটি বাতিল করুন

    • মজার খবর
    • সর্বাধিক পঠিত
    • আলোচিত খবর
    June 13, 2026

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, প্রথম বিলিয়নিয়ার ছিলেন কে? 

    April 21, 2026

    দৌড়ে মানুষের রেকর্ড ভাঙল চীনা রোবট!

    April 19, 2026

    মানুষ কেন মারামারি দেখতে পছন্দ করে

    February 17, 2026

    আপনি আপনার নানির গর্ভেও ছিলেন, জানেন কি?

    October 25, 2025

    চুমু খেলে কমবে মেদ-ওজন!

    September 22, 2025

    বিমানের ভেতরে ইঁদুর, ফ্লাইট উড্ডয়নে বিলম্ব

    September 17, 2025

    মানুষ কেন বহু জনের প্রতি আকষর্ণ বোধ করে

    September 2, 2025

    ব্রিটেনের অবিবাহিত পুরুষরা ৪ মাসে একবার বিছানার চাদর পাল্টান

    August 31, 2025

    জাপানি চায়ে বিশ্ব মাতোয়ারা

    August 26, 2025

    বিড়াল দত্তকে মিলবে ফ্ল্যাট ও টাকা

    April 20, 2025

    সহজে ভিসা পাওয়া যায় এমন ইউরোপীয় দেশসমূহ

    February 24, 2026

    নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা : দ্রুত পাওয়ার সহজ ধাপসমূহ

    April 27, 2025

    আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সহজ উপায়

    February 9, 2013

    আসছে ফেসবুক ফোন

    February 23, 2019

    বাংলা উইকিপিডিয়া সমৃদ্ধ করার আহ্বান

    March 9, 2017

    ব্রণের হাত থেকে বাঁচতে যা করবেন

    February 26, 2017

    জেনে নিন কাপড় থেকে দাগ তোলার সহজ উপায়

    June 30, 2019

    চীনের কাছে হেরে গেল যুক্তরাষ্ট্র, হুয়াওয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

    April 8, 2019

    একটি মারাত্মক ভূল কাজ !! এক কম্বলের নিচে দুই ভাই, দুই বোন অথবা দুই বন্ধু ঘুমানো !!

    May 5, 2016

    গরমে রঙিন আরামের পোশাক

    February 11, 2026

    চলতি বছর কোন দেশে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সহজ?

    October 31, 2025

    ওমরাহ ভিসা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আসছে বড় পরিবর্তন

    October 30, 2025

    জার্মানির ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

    October 30, 2025

    মাল্টায় গোল্ডেন ভিসার সুযোগ

    October 27, 2025

    এইচ-১বি ভিসা স্পন্সরশিপ বন্ধ করল আমেরিকার ৪ বড় কোম্পানি

    October 26, 2025

    গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী ব্যবসায়ীদের জন্য দারুণ সংবাদ দিল আমেরিকা

    October 23, 2025

    এক প্রশ্নেই ভিসা বাতিল শিক্ষার্থীর, এফ-১ ভিসা নিয়ে নতুন বিতর্ক

    October 19, 2025

    ভিসা বাতিল হতে পারে ৯টি সাধারণ ভুল

    October 18, 2025

    ভিসা সংকটে বাংলাদেশিরা

    October 8, 2025

    ‘ভারতীয়দের জন্য ভিসা নীতি শিথিল হবে না’

    সর্বশেষ...
    July 16, 2026

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে সোনালী ট্রফির দোড়গোড়ায় মেসি

    July 14, 2026

    মৃত্যুর দুই দশক পরও ঢাকাই সিনেমার মুকুটহীন হাসির রাজা দিলদার

    July 7, 2026

    মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ : আদিম গুহাবাস থেকে আধুনিক মহাকাশ যুগের অবিশ্বাস্য যাত্রা

    July 6, 2026

    বাংলাদেশের উপজাতীয় সংস্কৃতি : বৈচিত্র্য, প্রথা ও জীবনযাত্রার এক অনন্য কোলাজ

    জনপ্রিয় টপিকসমূহ
    অর্থনীতি ইতিহাস-ঐতিহ্য খেলা চাকরির খবর জীবনধারা টিপ্স-ট্রিক্স ধর্ম প্রবাসকথা প্রযুক্তি বাংলাদেশ বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিনোদন বিবিধ বিশ্বজুড়ে ভিসাতথ্য মজার খবর মতামত রূপচর্চা রেসিপি সাহিত্য স্বাস্থ্য
    দৈনিক আর্কাইভ
    July 2026
    S S M T W T F
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031
    « Jun    
    Copyright © 2011-2026 BartaBangla. Powered by DigBazar.
    • Home
    • About Us
    • Contact us
    • Our Team
    • Impressum
    • Sitemap
    • Download Apps

    কোনও কিছু অনুসন্ধান করার জন্য উপরে কিছু লিখে এন্টার চাপুন...

    আপনার ব্রাউজারে অ্যাড-ব্লকার সক্রিয়!
    আপনার ব্রাউজারে অ্যাড-ব্লকার সক্রিয়!
    আমাদের ওয়েবসাইটটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই অনুগ্রহ করে আপনার অ্যাড-ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদেরকে সহযোগিতা করুন...