আসমা সুলতানা চৈতী »

নোয়াখালী সদর উপজেলায় মেডিকেল কলেজ থেকে পাসের সনদ ও বিএমডিসির নিবন্ধন না থাকলেও নিজের নামের সঙ্গে ‘এমবিবিএস’ জুড়ে রোগীদের এক বছর ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন একজন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহরের হাসপাতাল সড়কের পাশের মাতৃছায়া হাসপাতাল থেকে কামরুল হাসান (৩২) নামে ওই ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত দুই মাস ধরে মাতৃছায়া হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন কামরুল হাসান। এর আগে, এক বছর ধরে শহরের আরেকটি হাসপাতালে রোগী দেখেছেন তিনি।

কামরুল হাসান লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হোসেন আহমেদের ছেলে। ডাক্তারি না পড়েও কামরুল হাসান নিজের নামের সঙ্গে এমবিবিএস, পিজিটি (মেডিসিন) ও নিউরোমেডিসিন, হৃদরোগ বক্ষব্যাধি, বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি জুড়ে দিয়ে প্যাড ব্যবহার করে নিয়মিত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেন জানান, এনএসআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতৃছায়া হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ভুয়া চিকিৎসক কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় এনে জেলা সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে কামরুল হাসান স্বীকার করেন তিনি চিকিৎসক নন। ডাক্তারি না পড়েই এমবিবিএস তিনি। তার কোনো সনদ নেই। প্রতারণা করে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি জুড়ে প্যাড ব্যবহার করে এতদিন রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর মাসে মাতৃছায়া হাসপাতাল থেকেই আবুল কাশেম নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »