বঙ্গবন্ধুর চেতনায় প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ার আহ্বান

বঙ্গবন্ধু

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনায় বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন তা ধারণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সোমবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু উপাধির ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান ও বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করার সময়কার স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এ দিনটি যখন আসে আমার স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে। এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। সেই সময় আমি ছিলাম একজন সৌভাগ্যবান যুবক; কারণ বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করতে পেরেছিলাম। স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর মনের মধ্যে সব সময় ছিল। এটা তিনি কোনোদিন ভোলেননি।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানেও ষড়যন্ত্র চলছে। যারা ষড়যন্ত্র করার তারা করছে। তারা থামবে না।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন অন্য একটি প্রতিপক্ষের এটি ভালো লাগছে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় একটি পক্ষ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে, সে সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। সুতরাং এত বড় ঘটনায় সরকার কখনো সুবিধা পেতে পারে না। এ ছাড়া এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেক আত্মীয়স্বজন নিহত হয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার অধিকতর তদন্তের দাবি করেছেন। যদি অধিকতর তদন্ত করাই হয়, তবে খালেদা জিয়াসহ তাদের দলের অন্যদের নামও আসতে পারে।’

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না- উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানিতে সবাই ব্যস্ত ছিলেন নাক ডেকে ঘুমানোয়।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চেতনায় একটি আধুনিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

বাংলাদেশের আক্ষরিক গঠন বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনায় হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেভাবে প্রকৌশলীরা একটি ভবনের নির্মাণের পরিকল্পনা করে বঙ্গবন্ধুও দেশের বিচার, পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে সেভাবেই পরিকল্পনা করতেন।’

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় পরে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় নিহত ও অগ্নিদগ্ধদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিডিয়াকর্মী ও চলচ্চিত্র অভিনেতা, অভিনেত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।