অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম

নাহিদ

ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুমিল্লার হোমনার কাউসার আলম এবং চৌদ্দগ্রামের খবির উদ্দিন নাহিদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃহস্পতিবার রাতে হোমনার গ্রামের বাড়িতে কাউসারের মরদেহ আনার পর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে দাফন করা হয় চৌদ্দগ্রামের খবির উদ্দিন নাহিদকে।

নিহতের বড় ভাই ইলিয়াস হোসেন জানান, তার ছোট ভাই (কাউসার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনে হাফেজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয় কাউসার আলমকে। এলাকার প্রিয় সন্তানের জানাজায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সমবেত হয়।

তার এই অকাল মৃত্যুতে বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোনের আহাজারি যেন থামছে না। ঘটনার ২ দিন পেরিয়ে গেলেও এলাকার লোকজন কাউসারের বাড়িতে ভিড় করছে। পরিবারের লোকজন জানান, তার স্বপ্ন ছিল ব্যাংকার হওয়ার। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ওই স্থান চকবাজারে আল মদিনা মেডিকেল ও ডেন্টাল ইউনিট এবং একটি ওষুধের ফার্মেসি চালাতো।

সে পড়াশুনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিল। অকালেই সে স্বপ্ন পুড়ে ছাই হলো নিমিষেই। চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। বড় ভাই ইলিয়াস হোসেন পেশায় ডেন্টাল ডাক্তার অন্য ভাইয়েরাও ব্যবসার করছেন। কাউসার পুরান ঢাকায় সপরিবারের থাকতেন। আবদুল্লাহ নামে তার একটি ছেলে এবং নুসাইবা নামে একটি মেয়ে রয়েছে তার।

এদিকে শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী বাড়িতে গিয়ে কাউসারের এ অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

চৌদ্দগ্রামের খবির উদ্দিন নাহিদ

এদিকে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে জেলার চৌদ্দগ্রামের খবির উদ্দিন নাহিদের (৩৮)। নিহত নাহিদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা গ্রামের দ: পাড়ার মৃত সৈয়দ কামাল উদ্দিন ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সে ঢাকায় চকবাজারে চাউল ও প্লাস্টিকের ব্যবসা করতো। নিহতের বড় ভাইয়ের ছেলে সৈয়দ আব্দুল হাই মিল্লাত জানান, তার কাকা ঢাকায় দীর্ঘ দিন প্লাস্টিক ও চাউলের ব্যবসা করতো। তিনি স্ত্রী আকলিমা আক্তার এবং ২ কন্যা নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। বড় মেয়ে আয়েশা নাহিদ (৭) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রথম শেণির ছাত্রী ও ২য় মেয়ে আদিবা নাহিদ নাতাশা (৫)।

ঘটনার রাতে নাহিদ ১২ লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করে টাকা ক্যাশ বাক্সে রেখে মালামাল ডেলিভারি দিতে গুদামে প্রবেশ করেছিলেন। আগুন লাগার খবরে দোকানে প্রবেশ করতে গিয়েই তাকে অকালে জীবন দিতে হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে তার মরদেহ বাড়িতে আনার পর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়িতে নাহিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় এলাকার সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন।