বার্তাবাংলা ডেস্ক »

জগতের মানুষ যখন তাদের যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমিতে ক্লান্ত, তখন একেকটা উৎসব কিংবা পার্বণ তাদের মানসিক ক্লান্তির ওষুধ হিসেবে কাজ করে। নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে ফেলে শিক্ষা ও কর্মের তাগিদে আসা মানুষগুলো ভুলে যায় না তাদের নিজস্ব উৎসব-অনুষ্ঠানের কথা। দিনরাত এক করা প্রবাসী ব্যস্ত জীবনেও আসে মাঘ মাস, আসে পঞ্চমী তিথি, আসে শ্বেতবসনা, শুভ্র হাসিনী, বীণাগঞ্জিত, মঞ্জুভাষিণী, কমল কুঞ্জাসনা বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী। তখন রবিঠাকুরের কবিতার মতোই প্রতিটি ভক্ত হৃদয়ে ঝংকৃত হয়—

বাজুক সে বীণা, মজুক ধরণি
বারেকের তরে ভুলাও জননী।

বাচ্চাদের হাতেখড়ি অনুষ্ঠানদক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বৈদিক কালচার অ্যান্ড ইয়োগা সেন্টারে (সিউল মন্দির) প্রথমবারের মতো মহাসমারোহে উদ্‌যাপিত হয়েছে সরস্বতী পূজা। পঙ্কজ দত্ত, মনা সাহা ও অন্য ভক্তদের প্রচারণা ও সার্বিক সহযোগিতায় কোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশ, ভারত, কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন ও নেপালের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী, গবেষক, ইপিএস কর্মী ও ব্যবসায়ীরা হিমশীতল ঠান্ডা উপেক্ষা করে সপরিবারে এই পূজায় অংশগ্রহণ করেন।

ভজন কীর্তন পরিবেশন করছেন ভক্তরা১০ ফেব্রুয়ারি রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে পূজা আরম্ভ হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় সমবেত ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের পর প্রার্থনা করেন। এ ছাড়া এবারের পূজায় ছোট বাচ্চাদের জন্য হাতেখড়ি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুষ্পাঞ্জলি প্রদান শেষে ধর্মালোচনা করেন ব্রাজিলের ভক্ত দেবানন্দ দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন সিউলের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ অমিত বলরাম দাস ও ইনচনের ইনহা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেশবচন্দ্র অধিকারী। সরস্বতী পূজাবিষয়ক বক্তব্য দেন আশুতোষ অধিকারী। এ ছাড়া সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ার ইউক্রেন দূতাবাসের প্রথম সচিব রোমান পিরি ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিউল শাখার ব্যবস্থাপক লোকেশ কুমার।

পূজার সাজে নারী ভক্তরাবেলা দেড়টা থেকে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভজন কীর্তন পরিবেশন করেন শিল্পী আশুতোষ অধিকারী ও রতন সরকার। বংশীবাদক হিসেবে ছিলেন হিমু মণ্ডল। নৃত্য পরিবেশন করেন রুম্পা বিশ্বাস। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন বীণা মজুমদার।

পূজায় সভাপতিত্ব করেন ইউংনাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাসি রানি বাড়ৈ। আরও ছিলেন মনা সাহা, পঙ্কজ দত্ত ও অরুণাভ মণ্ডল। প্রতিমা ভারত থেকে নিয়ে আসার জন্য সহায়তা করেন ইসকনের ভক্তরা। পৌরোহিত্য করেন তাপস চন্দ্র দেবনাথ। সুস্বাদু প্রসাদ প্রস্তুত করেন পঙ্কজ দত্ত ও মনা সাহা। মন্দির সজ্জায় সহযোগিতা করেন আশিষ কুমার সরকার, রুম্পা বিশ্বাস, আঁখি বিশ্বাস, পি কে রায় ও শরৎ চন্দ্র বর্মণ। সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন মিঠুন, তারাপদ, প্রদ্যুৎ ও সিউল মন্দিরের ভক্তরা।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »