অর্জন বাংলাদেশের মানুষের জন্য

রাশিয়া

রাশিয়ার বিশ্বখ্যাত পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাজুয়েটস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস পিপলসের ‘কাউন্সিল চেয়ারম্যান’ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার এ অর্জন রাশিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো বাংলাদেশের মানুষের।’

সম্প্রতি মস্কোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেশের অ্যালামনাই প্রতিনিধিদের নিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অ্যাসোসিয়েশন অব গ্র্যাজুয়েটস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়ার সভাপতি, কাউন্সিল সদস্য ও কাউন্সিল চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।

সবার সম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির এম ফিলিপভ সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আলমগীর জলিল কাউন্সিল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এত বড় দায়িত্ব পেলেন। এ সংগঠনে ১৫৮ দেশের সদস্য রয়েছে। সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভ্লাদিমির এম ফিলিপভ।

কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মস্কো চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও মস্কো সিটি ডুমার ডেপুটি প্লতনভ ভ্লাদিমির মিখাইলভিচ, পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিষয়ক উপ-উপাচার্য ইফ্রেমোভা লারিসা ইভানোভনা, ছাত্রছাত্রী বিষয়ক উপ-উপাচার্য গ্লাদুশ আলেকজান্ডার দিমিত্রিভিচ।

আলমগীর জলিলের বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায়। ইতিহাস গড়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংগঠনের শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন।

সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করবো। দায়িত্ব পাওয়ার পর রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইফুল হকসহ দেশটিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও অবস্থানরত কমিউনিটির সদস্যরা আলমগীর জলিলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটির আছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিশেষত্ব। রাশিয়ায় ও বহির্বিশ্বে গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলাদা ভাবমূর্তি রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম দেওয়া হয়েছিল প্যাট্রিস লুমুম্বা গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রাশিয়া গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বাংলাদেশি কোনো নাগরিক অ্যাসোসিয়েশন অব গ্র্যাজুয়েটস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের কোনো পদের দায়িত্ব পেলেন। রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইফুল হকসহ দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা আলমগীর জলিলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।