আরব-আমিরাতে ডুয়েটিয়ানদের মিলনমেলা…

মরুর বুকে ডুয়েটিয়ানদের পদচারণা দু’দশকেরও বেশি। আরব-আমিরাতে ডুয়েট নামে একসাথে হওয়ার ইতিহাসের শুরু ২০০৭-এ শারজাহ’র আল মাজাজ পার্কের পিকনিক থেকে। সেই থেকে প্রায় প্রতি বছরই ওই মিলনমেলা চলছে।

এবারের আয়োজন অন্যবারের থেকে ব্যতিক্রম। কয়েক বছর থেকেই রাস আল খাইমা’র ডুয়েটিয়ানরা বলছিলেন তাদের ওখানে আয়োজন করার। আকিক ভাই দলনেতা তাদের, প্রস্তুতি বৈঠকে তাই ভে্যনু হিসাবে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হলো সুবিশাল পাহাড়ের কোলঘেঁষে রাস আল খাইমার সাকার পার্ক।

৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারকে সামনে রেখে শুরু হল জোর প্রস্তুতি। প্রত্যেকবারই বড়ভাইদের বেশি অনুদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সফল করতে হয়। এবারে এগিয়ে আসলেন তরুণরা, কুষ্টিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা প্রকৌশলী জহির রেহান জানান, তার কোম্পানি ইভেন্টের টি-শার্ট স্পন্সর করবে। এ কথা শুনতেই তুমুল করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানালেন তাঁকে। ইতিসালাতের আরেক প্রকৌশলী নূরে আলম জানান, তিনি একটি প্রতিযোগিতার পুরস্কার দিবেন। এভাবে এগিয়ে আসলেন আরও অনেকে। প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম দায়িত্ব নিলেন মিডিয়ার। মিডিয়া পার্টনার হলো আরটিভি।

পুরস্কার কেনা, দাওয়াত দেওয়া অংশগ্রহণকারীদের তালিকা করতে বরাবরের মত প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নিলেন। হোস্ট স্টেট নিল খাবারের দায়িত্ব। খবর আসতে লাগল খাসি কেনা হয়েছে, চলছে আরও যোগাড়যন্ত্র। চিন্তিত আকিক ভাই কি খাওয়াবেন কেমন হবে ইত্যাদি। এভাবেই চলে আসল সেই ক্ষণ।

৮ ফেব্রুয়ারি রাস আল খাইমার সাকার পার্কে অনুষ্ঠিত হল সংযুক্ত আরব-আমিরাতের বসবাসরত ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়েটের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের এক বিশাল মিলনমেলা।

শিশুদের আর্ট প্রতিযোগতা, ভাষা দিবসের স্মরণ, বিভিন্ন খেলাধুলা আর ক্যাম্পাসের দিনগুলোর গল্প ও সারাদিন নানা রকম আয়োজনে মরুর বুকে আমিরাতের ফুজিরা, আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, আল-আইন, উম্মুল কোয়েন, আজমান আর হোস্ট স্টেট রাস আলখাইমার শতাধিক প্রকৌশলী পরিবারবর্গের স্বতঃফূর্ত উপস্থিতিতে সাকার পার্ক একদিনের জন্য যেন হয়ে উঠল একটি জীবন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস! টাইমমেশিনে চড়ে সবাই ফিরে গেল যার যার পুরোনো দিনে পুরোনো বন্ধুদের সাথে।

রাস আল খাইমার ডুয়েটিয়ানদের সংগঠক প্রকৌশলী আকিকুর রহমানের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হয় অনুষ্ঠান। তারপর একে একে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান কবির, মমিনুল ইসলাম মানিক, নূরে আলম, হুমায়ুন কবির, নেছার উদ্দিন, অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পনসর প্রকৌশলী জহির রেহান, মিল্টন বিশ্বাসসহ আরও অনেকে। ডুয়েটের মহিলা সদস্য নীলা, আলো আর তাঞ্জিলারাও ক্যাম্পাসের সেই সোনালীদিনগুলো স্মরণ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে।

ডুয়েটের ১ম ব্যাচের গ্রাজুয়েট দুবাই আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আব্দুস সালাম খানের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্য়াসোসিয়েশন দুবাই ও নর্দান এমিরেটসের সেক্রেটারি ডুয়েটিয়ান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আজিজ, প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ আরও অনেক সিনিয়র প্রকৌশলীবৃন্দ। বক্তারা প্রকৌশল পেশার এই আন্তজার্তিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের পেশাগত যোগ্যতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক মতবিনিময় ও যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশকে ও ডুয়েটকে বৈশ্বিক এই মিলনমেলায় তুলে ধরার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনাসহ খেলাধুলা পরিচালনায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্য়াসোসিয়েশন দুবাই ও নর্দান এমিরেটস-এর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আরব-আমিরাতে ডুয়েটিয়ানদের অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী মুহাম্মাদ মঈনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন মুস্তাফিজুর রহমান, আশরাফুজ্জামান রাজু, আশরাফুল ইসলাম, আবুল কালাম আযাদ, রফিকুল ইসলাম, শেখর , রানাসহ বিভিন্ন ব্যাচের ডুয়েটিয়ান প্রকৌশলীবৃন্দ।