বিশ্বজয়ী নাজমুন নাহারের আমিরাত দর্শন

নাজমুন নাহার

বিশ্ব ভ্রমণের গল্প শোনাতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাত্রা বিরতি করেছেন নারী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার। সোমবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএইয়ের তত্বাবধানে তিনি আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি ও বাণিজ্যিক শহর দুবাই অবস্থান করেন।

ইতোমধ্যেই নাজমুন নাহারের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১২৫টি দেশ ভ্রমণ ও বিশ্বের দরবারে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানোর কৃতিত্ব। যেখানেই যান, সেখানেই থাকে লাল সবুজের পতাকা।

স্টকহোমের অরলান্ডা বিমানবন্দর থেকে নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরার পথে দুবাইতে যাত্রা বিরতি করেন। এ সময় আমিরাত প্রবাসী আত্মীয় মকবুল হোসেন সরকার দম্পতি ও প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দরা তাকে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানকালে আধুধাবির শেখ খলিফা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেমন তাকে আনন্দিত করে। তেমনি বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে স্মৃতি পাতায় ধরে রাখতে তার সঙ্গে তোলা ছবি আর শিক্ষার্থীদের অটোগ্রাফ নেয়ার দৃশ্য ছিল মনে রাখার মতো।

এ সময় বিশেষ করে বাংলাদেশ স্কুলের প্রিন্সিপাল মীর আনিসুল হাসানসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালোবাসার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান বলেন, নাজমুন নাহারের বিশ্বজয়ের কথা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের মাধ্যমে নাজমুন নাহারকে আমরা স্কুলে পেয়ে সত্যি অসম্ভব ভালো লাগছে।

এরপর বিকেলের পড়ন্ত রোদে নাজমুন নাহার যোগ দেন দুবাইয়ের বিখ্যাত মামজার সৈকতে। সেখানে বসে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএইয়ের আয়োজনে স্মৃতিচারণ, আর জমজমাট আড্ডা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন রাস আল খাইমা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদ। আমিরাতে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নাজমুন যেসব দেশ ভ্রমণ করেছেন তার গল্প শোনান।

তিনি বলেন, ‘মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির দেশে কবিতার দেশে, জ্যাক কেরুয়াকের ‘অন দ্য রোড’, এরিক উইনারের ‘দ্য জিওগ্রাফি অব ব্লিস’ সুজানা রবার্টসের ‘ অলমোস্ট সাম হয়ার’, চেরিল স্টেরয়েডের ‘ওয়াইল্ড: ফ্রম লস্ট টু ফাউন্ড’ অন দ্য প্যাসিফিক ক্রেস্ট ট্রেইল’ এবং মাসুদ রানা সব বইও বিভিন্ন ট্রাভেল ব্লগার্সদের ব্লগ আমাকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছে!’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একাই সব কাজ করতে পছন্দ করি, একা পথ চলতে গিয়ে পড়ে গেলে আবার একাই উঠে দাঁড়াই, তাতে আমার সাহস এবং আত্ববিশ্বাস বেড়ে যায়। তাই আমি একাই নির্ভয়ে বিশ্বের পথে পথে হাঁটছি’।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি এক অনন্য দূত হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে। ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমন। বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার বিশ্ব যাত্রার শুরু।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ৯৩তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন নিউজিল্যান্ড। এই দুর্দান্ত সাহসী নারী একে একে বাংলাদেশের পতাকাকে পৌঁছান সর্বোচ উচ্চতায়। তিনি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে টানা ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। ২০১৮ সালে ভ্রমণ করেছেন ৩২টি দেশ। এসব দেশে উড়িয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা।

স্মৃতিচারণ ও আড্ডার ফাঁকে নাজমুন নাহারের হাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএইয়ের পক্ষ থেকে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক, প্রেসক্লাব স্মৃতিগ্রন্থ। এ সময় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএইয়ের তত্বাবধানে নাজমুন নাহার বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।