বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

শৈত্যপ্রবাহে কদর বেড়েছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় তৈরি কম্বলের। কয়েক দিন শীত বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কাজীপুরের কম্বল বিক্রির ধুম। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসছেন। কিনে নিয়ে যাচ্ছেন নানা রঙের কম্বল।

গতকাল বুধবার উপজেলার শিমুলদাইড় বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বছর কুড়ি আগের ঘটনা। যমুনাবিধৌত কাজীপুর উপজেলার চালিতাডাঙা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট কাপড়ের কম্বল তৈরি শুরু করেন। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঝুট কাপড় কিনে এনে সেলাইমেশিনে একটির সঙ্গে আরেকটির জোড়া দিয়ে তৈরি করা হতো এ কম্বল। এ কারণে এর নামকরণ হয় ঝুট কম্বল। সময় পার হয়, ধীরে ধীরে এ কাজে যুক্ত হন উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষ খুঁজে পান উপার্জনের নতুন পথ। তাঁরা দিনরাত একাকার করে তৈরি করেন কম্বল। একপর্যায়ে শিমুলদাইড় বাজার কম্বলের বড় বাজার হিসেবে গড়ে ওঠে। এরপর সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সীমানা পার হয়ে এ কম্বল ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রায় সব জেলায়।

বাজারের তিনজন কম্বল ব্যবসায়ী বলেন, ঝুট কাপড়ের পাশাপাশি নতুন কাপড়ের কম্বলও তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে নতুন কাপড় কিনে এনে কেটে সেলাই করে এসব কম্বল তৈরি করা হয়। বাজারে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকা দামের কম্বল পাওয়া যায়। প্রথম দিকে শুধু দুস্থ মানুষের কথা চিন্তা করে ঝুট কাপড়ের কম্বল তৈরি করা হতো। এ কম্বল নারীরা বাড়িতে বসে সেলাইমেশিনে জোড়া দিয়ে তৈরি করতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বাড়তে থাকে কম্বলের চাহিদা। সাধারণ কম্বলের সঙ্গে সঙ্গে বাহারি কম্বল তৈরিও শুরু হয়।

উপজেলার শিমুলদাইড়, বরশীভাঙ্গা, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বরইতলা, মুসলিমপাড়া, মানিকপোটল, গাড়াবেড়, রশিকপুর, হরিনাথপুর, ভবানীপুর, মাথাইলচাপড়, রৌহাবাড়ি, পলাশপুর, বিলচতল, চকপাড়া, লক্ষ্মীপুর, বেলতৈল, চালিতাডাঙা, মাধবডাঙাসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে তৈরি হয় হরেক রঙের ও মানের কম্বল। এসব গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত।

ছালাভরা গ্রামের নার্গিস খাতুন, চায়না খাতুনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, তাঁরা একটি কম্বল সেলাই করে ২৫ থেকে ৩০ টাকা মজুরি পান। রান্নাবান্নাসহ ঘরকন্নার কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি কম্বল সেলাই করেন। এতে তাঁর বাড়তি আয় হয়।

তিনজন কম্বল ব্যবসায়ী বলেন, সাধারণ মাপের একটি লেপ তৈরি করতে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু মানভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় কম্বল পাওয়া যায়। ফলে কম্বলের কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে।

শিমুলদাইড় বাজারের ব্যবসায়ী আয়নাল হক, সোহেল রানা, আবদুল লতিফ ও রাশেদুল ইসলামসহ ১০ জন বলেন, এ বাজারে শতাধিক কম্বলের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান থেকে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অনেক জেলায় কম্বল সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্রেতারা পছন্দ করে দরদাম ঠিক করে টাকা পাঠালে এখান থেকে ট্রাকে কম্বল পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিনই ট্রাকে করে কম্বল যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।

রংপুর থেকে কম্বল কিনতে আসা ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এমনিতেই গরিব মানুষের কাছে কাজীপুরের ঝুট কাপড়ের কম্বলের কদর বেশি। দামে কম কিন্তু টেকসই আর ভালো ওম পাওয়া যায় এ কম্বলে। তা ছাড়া নতুন কাপড়ের কম্বলও তৈরি করা হচ্ছে। দেখতে সুন্দর ও নাগালের মধ্যে দাম থাকায় অনেকেই এসব কম্বল কিনছেন।

এলাকার রফিকুল ইসলাম, সালমা খাতুন, সাইদুল ইসলামসহ পাঁচজন বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যক্তি উদ্যোগে কম্বলের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। অনেকে ঋণ করে অর্থের জোগান দেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, কাজীপুরে ঝুট কাপড় ও নতুন কাপড়ে তৈরি হওয়া কম্বল এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »