বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

সময় নাকি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়। সময়ের ফেরে পরে কে কিভাবে যেন চোখের সামনে যেন হারিয়ে যায় বলা মুশকিল। কাছের মানুষের এমন দূরে হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কবি তারাপদ রায়ের একটা কবিতা আছে। ‘অনেকদিন দেখা হবে না। তারপর একদিন দেখা হবে। দুজনেই দুজনকে বলবো অনেকদিন দেখা হয়নি। ঠিক এমনটাই ঘটেছে দুই বৃদ্ধ দম্পতির। বিবাহবিচ্ছেদের প্রায় ৭২ বছর পর দেখা হল দুজনার।

১৯৪৬ সালের কথা। তখনো দেশভাগ হয়নি। ভারতের কেরালার কাভুম্বায়ি গ্রামে উত্তাল কৃষক আন্দোলনের আগুনে ছারখার হয়ে গিয়েছিল নারায়ণন-সারদার দাম্পত্য জীবন। এত বছর পর প্রথম স্ত্রী সারদার সঙ্গে দেখা হল ৯৩ বছর বয়সী নারায়ণনের। অভিমানে বাকরুদ্ধ হয়ে থাকলেন ৮৯তে পা দেয়া সারদা। বললেন, ‘কারও ওপরে রাগ নেই।’

ভারতের একটি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারায়ণন আর সারদার এই প্রেমগাথা গল্প হলেও সত্যি। দুজনেরই যৌবন ফুরিয়েছে। পক্ককেশ, চামড়ায় ভাঁজ। মুখে বৃদ্ধ বটবৃক্ষের ঝুরি মূলের মতো অজস্র রেখা। দৃষ্টিশক্তিও বিশেষ নেই। তবুও যখন প্রেয়সীর সঙ্গে দেখা হল, নারায়ণন নামবিয়ার একপলকেই চিনতে পারলেন সারদা দেবীকে। দু’জনের কথাও হল। যাওয়ার আগে সারদাকে নারায়ণন বলে এলেন, ‘আজ আমি চলি।’ প্রত্যুত্তরে নিস্পৃহ সারদা স্রেফ তাকিয়ে রইলেন মেঝের দিকে। এখানেই গল্পটা শেষ!

আর এর অতীতটা দেখতে হলে ফিরে যেতে হবে প্রাক স্বাধীনতা পর্বে। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে নারায়ণন ছিলেন একজন বিপ্লবী। কেরলের কাভুম্বাইয়ে কৃষক আন্দোলনের অন্যতম সেনানি ছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁদের জেহাদ ছিল মূলত সামন্তবাদীদের বিরুদ্ধে। তত্সময়ের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিকাঠামো-তে দাঁড়িয়ে যে ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রয়োজন ছিল, সেই তাগিদেই সর্বসময়ের বিপ্লবী হয়ে ওঠেন নারায়ণন।

ভূমিদস্যুদের অকথ্য অত্যাচার ও পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে সংগঠিত করেন লড়াই আন্দোলন। সেই সময়ই মালাবার স্পেশাল পুলিসের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর কন্নুরের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারেই বন্দি ছিলেন তিনি। মুক্তি পান ১৯৫৪ সালে। কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন তার স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে গিয়েছে। পরে তিনিও দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই পক্ষের ৭ সন্তানও রয়েছে তার।

নারায়ণন ও সারদার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানরাই মূলত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দু’জনের সাক্ষাতের বন্দোবস্ত করেন। এই ডিসেম্বরেই কন্নুর জেলার ভার্গাবন শহরে সারদার বাড়িতে এসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন নারায়ণন। এই গোটা গল্পই চিত্রনাট্য করে তুলে ধরেছেন নারায়ণনের ভাইঝি সান্তা। কাকার জীবনের উপর একটি উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। তাঁদের চোখে এই দুইয়ের ‘মিলন’ একটি সুখস্মৃতি হয়েই থাকবে।

 

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »