বার্তাবাংলা ডেস্ক »

রিয়াল মাদ্রিদ নামটা কি শুধু তবে নামের ভারেই চলছে এখন? প্রশ্নটা সবার মুখেই ঘুরপাক খাচ্ছে। নাহলে একটা সময় যেই মস্কোকে এক হালি গোল দিত, সেই মস্কোর বিপক্ষে এক হালি গোল খায়! ২০১২ সালে কাকা-রোনালদোর রিয়াল ৪-১ ব্যবধানে ঘরের মাঠে মস্কোকে হারিয়েছিল। সেই রিয়ালকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় লেগে ০-৩ ব্যবধানে হারিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিল সিএসকেএ মস্কো। প্রথম লেগেও রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। তাই দুই লেগ মিলিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৪-০ ব্যবধানে হারালো! অবিশ্বাস্য!

রিয়াল মাদ্রিদের এমন দুর্দিন বোধহয় এর আগে কেউ দেখেনি। শেষ ৩৩টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ভেতর মাত্র একবারই রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে গোলবঞ্চিত ছিল তাও এই মস্কোর বিপক্ষেই প্রথম লেগের ম্যাচে। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নামান রিয়াল কোচ সোলারি। একাদশে ছিলেন না বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লুকা মদ্রিচ। তার অভাবটা বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই রিয়ালকে কাঁপন ধরিয়ে দেয় মস্কো। মারিও ফার্নান্দেজের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। ভিনিসিয়াস ও মার্কো আসেনসিওর জুটিতে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিল তারা। কিন্তু আসেনসিওর শট গোলবারের একদম কর্নারে লেগে প্রতিহত হয়।

২৮ মিনিটে ইস্কোর নেয়া ফ্রি কিক ব্লক করে দেয় মস্কোর মানব দেওয়াল। ৩২ মিনিটে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন আসেনসিও। কিন্তু এবার তিনি সোজা শট নেন মস্কোর গোলরক্ষক আকিনফেভের দিকে।

রিয়ালের ব্যর্থতাকে ঠিকই কাজে লাগিয়ে ৩৭ মিনিটে গোল আদায় করে নেয় মস্কো। সিগার্ডসনের ক্রস থেকে শালভ গোল করে মস্কোকে অপ্রত্যাশিতভাবে লিড এনে দেন। ৪৩ মিনিটে আবারও মস্কোর গোল। এবার মারিও ফার্নান্দজের শট কর্তোয়া রুখে দিলেও রিবাউন্ড থেকে মস্কোকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন শিনিকভ।

বিরতি থেকে ফিরে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে রিয়াল। কিন্তু গোলের তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারছিল না স্বাগতিকরা। উল্টো ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ডিবক্সের ভেতর ভ্লাসিচের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে মস্কোকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়ার পাশাপাশি রিয়ালের হারও নিশ্চিত করেন সিগার্ডসন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামকরণ করার পর ঘরের মাঠে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জায় পড়তে হলো সান্তিয়াগো সোলারির দলকে। তাছাড়া চতুর্থ দল হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদকে হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে হারালো সিএসকেএ মস্কো। তবে এমন কীর্তির পরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডে তো উঠতে পারেইনি বরং তৃতীয় হয়েও ইউরোপা লিগে খেলতে পারলো না দলটি। সেক্ষেত্রে দুর্ভাগা বলতেই হবে মস্কোকে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »