মৌলভীবাজারে- ১৮দলীয় জোটের হরতালে আটক ৪ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

65352_538692319515826_1371956757_n

এসএ চৌধুরী,মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারে-বিএনপির  নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোটের সারা দেশে নির্বিচারে গণহত্যার প্রতিবাদে, ১৮ দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দের গণহারে গ্রেফতার,অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে, ব্যর্থ সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ,নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন দিতে হবে-এমন দাবীতে ডাকা ৩৬ঘ: সারা দেশে- হরতালের অংশ হিসেবে জেলার সর্বত্রই পালিত হয়েছে। জেলার শমশেরনগর,মুন্সীবাজার,রহিমপুর,চৈত্রঘাট ও আদমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হরতাল চলাকালে বিভিন্নস্থানে মিছিল-পিকেটিং হয়েছে। সমর্থনকারীরা রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতার চেষ্ঠা করে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর জানা না গেলেও আটকের খবর জানা যায়।
অফিস আদালতে লোকজনের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে কম ও  দূরপাল্লার বাস ব্যতীত দু-এক জায়গায় হালকা যানবাহন আংশিক চলাচলসহ দোকানপাট খোলা  থাকলেও জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্ঠি হয়েছিল। রাস্তায় যান চলাচল না থাকায় অফিসগামী লোকসহ সাধারণ লোকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকের নানান কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও-বিএনপির  নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোটের ডাকা আজ থেকে ৩৬ঘ: হরতাল ও আগামী বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী জামায়াত শিবিরের ডাকা হরতালসহ টানা তিন দিনের হরতালের আজ প্রথম দিনে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাস চালক ও সিএনজি চালকদের মাথায় হাত দিয়ে ষ্ট্যান্ডে বসে গল্পগুজব করে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। আতংকিত হয়ে অনেকেই সিএনজি বের করেননি।
জেলার কমলগঞ্জঁ উপজেলার শমশেরনগরে সকালবেলা হরতালের পক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান পক্ষের অনুসারীদের পক্ষের কয়েক যুবক জেলা সদরে যাওয়ার রাস্তায় মোকামবাজারস্থ এলাকায় রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতার চেষ্ঠা করলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শিপলুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং একজনকে আটক করলেও অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। শমশেরনগর বিএনপির একাংশের (নাসের গ্রুপ) আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মুকুল) পুলিশ সদস্যদের- হরতালে শমশেরনগর আর কোনো ধরনের পিকেটিং হবেনা বলে আশ্বস্ত করে আটককৃতকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তবে মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মুকুল) পিকেটিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে বার্তা বাংলার এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে বলেন, পুলিশ কাউকে আটক করেনি । একটু শাঁসিয়ে গেছেন।
বিষয়টির প্রসঙ্গে পুলিশের দায়িত্বশীল এক সূত্রের সাথে আলাপকালে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আজকের হরতালে শমশেরনগরে হাজী মুজিবের অনুসারীরা মাঠে না থাকলেও নাসের গ্রুপের অনুসারীরা পিকেটিং করে প্রতিবন্ধকতার চেষ্ঠাকালে একজনকে আটক করলে,ওই (নাসের) পক্ষের স্থানীয় লিডিং পর্যায়ের জনৈক ব্যক্তি আশ্বস্ত করাতে ক্ষমা ও সহনশীলতা দেখানো হয়েছে। এক প্রশ্নোত্তরে বলেন, উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের (কমলগঞ্জ) নির্দেশে পতনউষারে গিয়ে পিকেটিংয়ে কাউকে পাওয়া না গেলেও সেখানকার লিডিং পর্যায়ের ব্যক্তিদের বলা হয়েছে পিকেটিংয়ে কাউকে পেলে আটক করা হবে।
এদিকে হরতাল বিষয়ে জেলা সদর থানার ওসি মুঠোফোনের মাধ্যমে বার্তা বাংলাকে বলেন, পিকেটিংয়ের দায়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে।কমলগঞ্জ থানার ওসি মুঠোফোনের মাধ্যমে বলেন,আজকের হরতালে কমলগঞ্জে কোনো কোনো ভাংচুর অবরোধ ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কোনো আটক গ্রেফতার করা হয়নি। শমশেরনগরে একজন আটকের প্রসঙ্গে বলেন,আটককৃত যুবক এইচ এসসি পরীক্ষার্থী বিধায় বিশেষ বিবেচনায় ক্ষমা করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্য করুন »